
ওয়াশিংটন, ০৩ মে – ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ অবসানের উদ্দেশ্যে দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি সম্ভব কি না—তা নিয়েও তিনি গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “তারা একটি চুক্তি করতে চায়। কিন্তু আমি এতে সন্তুষ্ট নই।” তবে তিনি নির্দিষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেননি, ইরানের প্রস্তাবের কোন অংশে তার আপত্তি রয়েছে।
ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, তেহরানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ জটিলতার কারণে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। তিনি বলেন, “তারা কিছুটা অগ্রসর হয়েছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে কি না তা নিয়ে আমি নিশ্চিত নই।”
হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সাংবাদিকদের তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে “তীব্র মতভেদ” রয়েছে। তার ভাষায়, “তাদের নেতৃত্ব এখন পুরোপুরি অসংলগ্ন। সেখানে দুই থেকে তিনটি, এমনকি চারটি গ্রুপও থাকতে পারে। তারা সবাই চুক্তি করতে চায়, কিন্তু নিজেদের মধ্যেই বিশৃঙ্খলা চলছে।”
এদিকে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। এই উদ্যোগে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা ভূমিকা পালন করছেন বলে জানা যায়।
তেহরানের একটি কূটনৈতিক সূত্র আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে নতুন এই প্রস্তাবের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে প্রকাশ্য বাক্যবিনিময় তীব্র হলেও কূটনৈতিক যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়নি। ইরানের নতুন প্রস্তাব এবং মধ্যস্থতাকারীদের সম্পৃক্ততা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পর্দার আড়ালে আলোচনা চলমান রয়েছে।
তবে ট্রাম্পের কঠোর মন্তব্য এবং অনাস্থা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। পারমাণবিক ইস্যু ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রশ্নে দুই দেশের অবস্থান এখনো দূরত্বপূর্ণ।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আবারও অনিশ্চয়তার মোড়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা, অন্যদিকে রাজনৈতিক কড়া অবস্থান—এই দ্বৈত পরিস্থিতি ভবিষ্যৎ আলোচনাকে কতটা এগিয়ে নিতে পারবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিশ্ব রাজনীতি তাই নজর রাখছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
এনএন/ ০৩ মে ২০২৬






