ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর শক্তিশালী পর্তুগাল দলের মুখোমুখি হয়ে ইয়োয়ানে উইসা জাতীয় দলকে একটি মূল্যবান পয়েন্ট এনে দিলেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে তার প্রথম গোলে প্রথমবার পয়েন্ট অর্জন করল কঙ্গো। ম্যাচ পরবর্তী এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার উচ্ছ্বাস চেপে রাখতে পারেননি। নিজ দেশে চলমান সংঘাতের কথা তুলে ধরেন। তার কথা, এই ম্যাচটি কঙ্গোর মানুষের কাছে শুধুই ফুটবলের চেয়েও অনেক বেশি কিছু ছিল।
হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে বুধবার রাতে ‘কে’ গ্রুপের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে জোয়াও নেভেস গোল করে পর্তুগালকে এগিয়ে দিলেও প্রধমার্ধের শেষদিকে তারা গোল হজম করে। যোগ করা অতিরিক্ত সময়ের ৫ মিনিটে দুর্দান্ত গোলে কঙ্গোকে সমতায় ফেরান ইয়োয়ানে উইসা। তাতে ১৯৭৪ সালে একমাত্র বিশ্বকাপে তিন ম্যাচে ১৪ গোল হজম করা দেশটি ইউরোপিয়ান জায়ান্টদের রুখে দিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপে পয়েন্ট অর্জন করল।
২৯ বর্ষী উইসা বলেছেন, ‘এটি একটি দুর্দান্ত ম্যাচ ছিল, খুবই কঠিন। তবে আজ আমি সত্যিই খুব আনন্দিত। মাঠে দলের লড়াইয়ের মানসিকতার প্রশংসা করি। আমরা বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে খেলছিলাম, তাই আমাদের অনেক চাপ সহ্য করতে হয়েছে। এই মুহূর্তে আমি খুবই উত্তেজিত। এই ফলাফলটি অবিশ্বাস্য। আমার সতীর্থ, কোচিং স্টাফ ও আমার পরিবারের জন্য অত্যন্ত খুশি।’
‘আপনারা জানেন, দেশের পরিস্থিতি খুবই কঠিন। কঙ্গো (ডিআরসি) একটি যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এটা (ফিফা বিশ্বকাপ এবং এই ম্যাচটি) তাদের কাছে পুরো পৃথিবীর মতো ব্যাপার। মানুষ কেবল সেটাই দেখে যা তারা দেখতে চায়, কিন্তু আমাদের দেশের মানুষ অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং অনেক শক্তিশালী। তাই আমি আন্তরিকভাবেই তাদের জন্য খুশি। আমি কেবল শান্তি ফিরে আসার প্রার্থনা করি এবং আশা করি তাদের জন্য সবকিছু মঙ্গলকর হবে।’

