
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের আলোচনার প্রস্তুতি হিসেবে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সামরিক পরিবহন বিমান অবতরণ করতে শুরু করেছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, তিনটি বিশালাকৃতির সি-১৭ গ্লোবমাস্টার বিমান রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। বিমানগুলো মূলত নিরাপত্তা সরঞ্জাম, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং উচ্চপর্যায়ের সফরের জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট বহন করে নিয়ে এসেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য সফরের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদিও কোনো পক্ষই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্যানুযায়ী, প্রথম বিমানটি স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায়, দ্বিতীয়টি সকাল ১১টা ০৩ মিনিটে এবং তৃতীয়টি দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে ইসলামাবাদে পৌঁছায়। আরও একটি বিমান পথে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জার্মানির রামস্টেইন এবং স্পেনের মোরন বিমানঘাঁটিতে অতিরিক্ত মার্কিন বিমানগুলোকে জ্বালানি নিতে দেখা গেছে, যা একটি বড় ধরনের লজিস্টিক অপারেশনের ইঙ্গিত দেয়।
মার্কিন প্রতিনিধিদের আগমনের খবরে ইতিমধ্যে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে জোরদার করা হয়েছে। ইসলামাবাদের রেড জোন এলাকাটি সাধারণ যানচলাচলের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং নাগরিকদের বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। এই উচ্চপর্যায়ের সফর ও বৈঠকের নিরাপত্তায় ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডি জেলা প্রশাসন সব ধরনের সরকারি ও ব্যক্তিগত পরিবহন পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে।
রেমিট্যান্স সংগ্রহে ‘টপ টেন রেমিটেন্স অ্যাওয়ার্ড’ পেল ট্রাস্ট ব্যাংক
রাওয়ালপিন্ডির পুলিশ প্রধান সৈয়দ খালিদ মাহমুদ হামদানির নির্দেশে ১০ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং শহরজুড়ে ৬০০টির বেশি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এলিট ফোর্স, ডলফিন ফোর্স এবং স্নাইপার দলগুলো স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নজরদারি চালাচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পাকিস্তান এই সংকট নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে গত ৮ এপ্রিল দুই পক্ষের মধ্যে একটি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
এর আগে ১০ ও ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, তবে তাতে স্থায়ী কোনো সমাধান আসেনি। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক তেহরান সফরের পর ইরান সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করলেও, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের প্রতিবাদে সেটি আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক টেলিভিশন ভাষণে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হলেও মৌলিক বিষয়গুলোতে এখনো বড় ধরনের ব্যবধান রয়ে গেছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন, তবে তেহরানকে কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টির চেষ্টা না করতে সতর্ক করেছেন। ইসলামাবাদের এই দ্বিতীয় দফার আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: জিও নিউজ


