
ওয়াশিংটন, ১৬ জুলাই – যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের কাছ থেকে আগাম এক লাখ ডলার জামানত বা বন্ড নেওয়ার একটি পরিকল্পনা বিবেচনা করছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মূলত স্বল্প আয়ের বিদেশিদের দেশটিতে অভিবাসনে নিরুৎসাহিত করতেই এই উদ্যোগ পর্যালোচনার কথা জানানো হয়েছে।
এই প্রস্তাব কার্যকর হলে নাগরিকত্ব লাভের আগ পর্যন্ত আবেদনকারীদের এই অর্থ জামানত হিসেবে জমা রাখতে হবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আনতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই উচ্চমূল্যের বন্ড ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, স্থায়ী অভিবাসী ভিসার আবেদনকারীদের জন্য বড় অঙ্কের বন্ড আরোপের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা এই বন্ডের পরিমাণ এক লাখ ডলার নির্ধারণের প্রস্তাব করেছেন। প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট কিছু দেশে পরীক্ষামূলকভাবে এই নীতি চালু হতে পারে।
আবেদনকারীর আর্থিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে বন্ডের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। পরবর্তী সময়ে ওই ব্যক্তি মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করলে জামানতের অর্থ ফেরত পাবেন। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই অর্থ মূলত আর্থিক নিরাপত্তা হিসেবে কাজ করবে।
যদি কোনো গ্রিন কার্ডধারী ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নিজের খরচ চালাতে ব্যর্থ হন, তবে সেই অর্থ ব্যয় করা হতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চান যুক্তরাষ্ট্রে যারা অভিবাসন করবেন, তাদের অবশ্যই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে।
আবেদনকারীদের ব্যয় বহনের সক্ষমতা যাচাইয়ের পদ্ধতি হিসেবেই নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এই বন্ড নেওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, নিম্ন আয়ের দেশগুলোর আবেদনকারীদের প্রবেশ সীমিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সাধারণত মার্কিন নাগরিকদের পরিবারের সদস্য যেমন স্বামী, স্ত্রী, বাবা মা বা ভাই বোনেরা এই ধরনের স্থায়ী ভিসার আবেদন করে থাকেন। গত বছর প্রায় পাঁচ লাখ এমন ভিসা ইস্যু করা হয়েছে। এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন সীমিত করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।
তবে অনেক ক্ষেত্রেই আইনি বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাদের। এর আগে বিদেশি কর্মীদের এইচ ওয়ান বি ভিসার ওপর বড় অঙ্কের ফি আরোপের চেষ্টাও আদালতে আটকে যায়। ট্রাম্প গোল্ড কার্ড নামে দ্রুতগতির একটি কর্মসূচি চালু করা হলেও তাতে আশানুরূপ সাড়া মেলেনি।
এস এম/ ১৬ জুলাই ২০২৬






