যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু ও তার স্ত্রী শামীমা শারমিনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৩১ কোটি টাকার বেশি সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় যশোরের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমীন মামলা দুটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুর বিরুদ্ধে ২৪ কোটি ৫৮ লাখ ৪৫ হাজার ২২১ টাকা এবং তার স্ত্রী শামীমা শারমিনের বিরুদ্ধে ৬ কোটি ৭২ লাখ ৯ হাজার ৪৫৩ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা যশোর শহরের পুরাতন কসবার শহীদ মশিয়ুর রহমান সড়কের বাসিন্দা।
রেন্টুর বিরুদ্ধে করা মামলায় বলা হয়েছে, পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি নিজের কোম্পানির নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ২৪ কোটি ৫৮ লাখ ৪৫ হাজার ২২১ টাকার সম্পদ অর্জন করেন। পরে এসব সম্পদ ভোগদখলে রাখেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে শামীমা শারমিনের বিরুদ্ধে করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য ১ কোটি ৭৯ লাখ ৭৩ হাজার ৩৩২ টাকা। পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ২৮ লাখ ৬৮ হাজার ৭১২ টাকা হিসাবে তার মোট সম্পদ ও ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ৮ লাখ ৪২ হাজার ৪৪ টাকা। ওই সময়ে তার বৈধ আয় পাওয়া যায় ১ কোটি ৭৬ লাখ ৬৪ হাজার ২৫৬ টাকা। এতে তার ব্যক্তিগত পর্যায়ে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩১ লাখ ৭৭ হাজার ৭৮৮ টাকা।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, শেয়ার অনুপাতে কোম্পানিতে শামীমা শারমিনের মোট সম্পদের পরিমাণ ১৮ কোটি ৫৭ লাখ ২০ হাজার ৪৯৯ টাকা। কোম্পানি থেকে তার আয় ৪৫ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭২ টাকা। শেয়ার অনুপাতে কোম্পানির ঋণের পরিমাণ ১১ কোটি ৭০ লাখ ৯২ হাজার ২৬২ টাকা। ঋণ বাদে কোম্পানিতে তার নিট সম্পদের পরিমাণ ৬ কোটি ৮৬ লাখ ২৮ হাজার ২৩৭ টাকা। এর মধ্যে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ৬ কোটি ৪০ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৫ টাকা।
দুদকের মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ব্যক্তিগত সম্পদ ও কোম্পানির ব্যবসায় শামীমা শারমিন জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ মোট ৬ কোটি ৭২ লাখ ৯ হাজার ৪৫৩ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। এ সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে তাকে সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে তার স্বামী জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুর বিরুদ্ধেও। এজাহারে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।


