গুলবদনের হজযাত্রা
গুলবদন ও তাঁর সঙ্গীরা আকবরের প্রদত্ত ‘সালিমি’ ও ‘ইলাহি’ নামের দুটি জাহাজে যাত্রা শুরু করেন। তাঁদের সঙ্গে ছিল সোনা, রুপা, হাজার হাজার নগদ অর্থ এবং ১২ হাজার পোশাক দানখয়রাতের জন্য। তবে মক্কার নৌপথ তখন পর্তুগিজদের নিয়ন্ত্রণে ছিল, যারা মুসলিম জাহাজ লুট করত বা পুড়িয়ে দিত। ফলে গুলবদন ও তাঁর দল প্রায় এক বছর সুরাট বন্দরে আটকা পড়েন। নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁরা আরব সাগর পাড়ি দিয়ে চার সপ্তাহ পর জেদ্দায় পৌঁছান। এরপর উটের পিঠে তপ্ত মরুপথ অতিক্রম করে তাঁরা মক্কায় প্রবেশ করেন।
ইতিহাসবিদদের মতে, গুলবদনের এই যাত্রার বিস্তারিত বিবরণ ঐতিহাসিক নথিতে কম পাওয়া যায়। অনেকে মনে করেন, রাজপরিবারের পুরুষ ইতিহাসবিদেরা ‘শালীনতা ও পবিত্রতা’ রক্ষার নামে নারীদের এই অসাধারণ অভিযানের তথ্য বাদ দিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিদ রুবি লাল তাঁর বই ভ্যাগাবন্ড প্রিন্সেস: দ্য গ্রেট অ্যাডভেঞ্চারস অব গুলবদন-এ এই যাত্রাকে সাহসিকতা, উদারতা এবং বিদ্রোহের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
মক্কায় বিদ্রোহী গুলবদন
মক্কায় পৌঁছে গুলবদন ও তাঁর সঙ্গীরা পরবর্তী চার বছর আরবে থেকে যান। তাঁরা হারেমের সীমাবদ্ধতা ছেড়ে মরুভূমিতে যাযাবরের জীবন বেছে নেন। মুদ্রা ও পোশাক বিতরণের মতো গুলবদনের দানশীলতা মক্কায় রটে যায়। এই উদারতা অটোমান সুলতান মুরাদের ক্ষোভের কারণ হয়, যিনি এটিকে সম্রাট আকবরের রাজনৈতিক প্রভাব প্রদর্শনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেন।
সুলতান মুরাদ তিন দফায় গুলবদন ও তাঁর সঙ্গীদের আরব ত্যাগের নির্দেশ দেন, কিন্তু গুলবদন প্রতিবারই তা প্রত্যাখ্যান করেন। রুবি লালের মতে, এটি ছিল একজন মোগল নারীর নজিরবিহীন বিদ্রোহ, যা তাঁর স্বাধীনতার প্রতি গভীর আকাঙ্ক্ষাকে প্রকাশ করে। অবশেষে, সুলতান মুরাদ গুলবদনের একগুঁয়েমিতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে অটোমান তুর্কি ভাষায় নিন্দাসূচক শব্দ ব্যবহার করেন, যা সম্রাট আকবরের অসন্তোষের কারণ হয়।