ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্লেষকদের একজন এখন থিয়েরি অঁরি। ফ্রান্স সাবেক মাঠে যেমন ছিলেন অসাধারণ, অবসরের পর ট্যাকটিক্যাল বিশ্লেষণেও মুগ্ধ করছেন ফুটবলপ্রেমীদের। সম্প্রতি লিওনেল মেসির গোল করার অসাধারণ ক্ষমতার পেছনের রহস্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তুলে ধরেছেন ফুটবলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ— ‘জোন ১৪’। তার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে মেসির এতো গোলের পেছনের সাফল্য রহস্য।
৩৯ বর্ষী লিওনেল মেসি প্রমাণ করে চলেছেন বয়স শুধুই একটি সংখ্যা। বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার পর জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসেকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে গোলসংখ্যা নিয়েছেন ১৮-তে। সাফল্যরথ ছুটছেই।
আধুনিক ফুটবল বিশ্লেষণে পুরো মাঠকে ১৮টি ভাগে বিভক্ত করা হয়। এরমধ্যে প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সের ঠিক বাইরে, মাঠের মাঝামাঝি যে অংশটি রয়েছে, সেটিই ‘জোন ১৪’ নামে পরিচিত।
ফুটবল বিশ্লেষকদের কাছে এটি ‘গোল্ডেন স্কয়ার’ হিসেবেও পরিচিত। কারণ, এই অঞ্চল থেকে সবচেয়ে বেশি কার্যকর আক্রমণ তৈরি হয়। ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স দলের সাফল্যের পেছনেও এই জোনে আধিপত্য ছিল অন্যতম কারণ। সেই দলের সদস্য ছিলেন থিয়েরি অঁরি। তাই এ জায়গার গুরুত্ব তিনি খুব ভালোভাবে জানেন।
ফক্স স্পোর্টসের বিশ্বকাপ সম্প্রচারে মেসির খেলা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে অঁরি বলেছেন, ‘জোন ১৪-ই মেসির বাড়ি, এই জোনেই মেসি বাস করেন, নিঃশ্বাস নেন, ঘুমান, এমনকি কফিও পান করেন।’
🚨 Thierry Henry explains why Messi always score from the same part of the pitch 👀 pic.twitter.com/ozs6mEvu9O
— AM☬ (@AbsoluteMxssi) June 25, 2026
অঁরির ব্যাখ্যায়, জোন-১৭তে সবচেয়ে বেশি গোল হয় কারণ সেখানে গোলপোস্ট। কিন্তু জোন-১৪তে যদি কোন খেলোয়াড় সঠিক সময়ে অবস্থান নিতে পারেন এবং খেলার গতি বুঝতে পারেন, তাহলে সেখান থেকে অসংখ্য গোলের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসির একটি গোলের ভিডিও দেখিয়ে অঁরি বোঝান, কীভাবে মেসি প্রতিপক্ষ ডিফেন্সের সামনে ঠিক জোন ১৪তে অবস্থান নেন। তার ভাষায়, ‘স্ট্রাইকাররা যখন দৌড় শুরু করেন, তখন ডিফেন্ডাররা দ্বিধায় পড়ে যান যে, মেসির দিকে এগোবেন, নাকি দৌড়ে যাওয়া খেলোয়াড়কে মার্ক করবেন। কেউ যদি মেসির দিকে বেরিয়ে আসেন, তিনি নিখুঁত পাস দেন। আর যদি না আসেন, তাহলে নিজেই গোল করে বসেন। কাউন্টার অ্যাটাকের সময়ও মেসি খুব দ্রুত জোন-১৪তে চলে আসেন। এরপর বল ফিরে পেলে প্রতিপক্ষের পক্ষে তাকে থামানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।’
ফুটবল ইতিহাসে জিনেদিন জিদান, ডেনিস বার্গক্যাম্পসহ অনেক কিংবদন্তি এই এলাকায় দাপট দেখিয়েছেন। তবে অঁরির মতে, জোন-১৪ এর প্রকৃত রাজা লিওনেল মেসি। বিশ্বজয়ী কিংবদন্তির অসাধারণ পজিশনিং, খেলা পড়ার ক্ষমতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া এবং নিখুঁত ফিনিশিং— এই চার গুণ তাকে এলাকাটিতে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ফুটবলার হতে সাহায্য করেছে।




