ভারতের মুম্বাই পুলিশ বিভাগে বেতন বিতরণে প্রায় ৬ কোটি ৪১ লাখ টাকার আর্থিক জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। তদন্তে জানা গেছে, ১০ জন ভুয়া কর্মচারীর নামে মাসের পর মাস বেতন তুলে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মুম্বাই পুলিশের বেতন ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব ভুয়া কর্মচারীর নামে প্রায় ৬.৪১ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। তবে সম্প্রতি পুরোনো ‘সেবার্থ’ বেতন পোর্টাল থেকে নতুন সফটওয়্যারে কর্মচারীদের তথ্য স্থানান্তরের সময় এই অনিয়ম ধরা পড়ে।
এক পুলিশ কর্মকর্তার দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, ১০ জন ব্যক্তিকে ভুয়া পুলিশ কর্মচারী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে নিয়মিত তাদের ব্যাংক হিসাবে বেতন পাঠানো হতো। এফআইআরে ওই ১০টি ভুয়া নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, অননুমোদিত বেতন লেনদেন মূলত দুই দফায় হয়েছে। প্রথম দফা ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় দফা ২০২০ সালের জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
পুলিশের অভিযোগ, তৎকালীন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কেরানিদের একটি চক্র হাজিরা খাতা ও চাকরির নথি জাল করে বহিরাগতদের নাম বেতন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা রামকিষাণ গোস্বামী, নাগেশ তালভাদেকর ও বিজয়া চ্যাভান, হেড ক্লার্ক অজয় রাঠোর এবং সিনিয়র ক্লার্ক অমল মেশরাম। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) ২০২৩-এর আওতায় তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি, বিশ্বাসভঙ্গ এবং ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। এরই মধ্যে বিজয়া চ্যাভান ও অমল মেশরামকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মুম্বাই পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে ভুয়া সার্ভিস আইডি ও ডিফাইন্ড কন্ট্রিবিউশন পেনশন স্কিম (ডিসিপিএস) আইডি তৈরি করে ১০ ভুয়া কর্মচারীর নামে বেতন অনুমোদনের অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে পুলিশ ভুয়া কর্মচারীদের পরিচয় এবং তাদের নামে খোলা ব্যাংক হিসাব কারা নিয়ন্ত্রণ করতেন তা তদন্ত করছে। একই ধরনের বেতন জালিয়াতির অভিযোগ মহারাষ্ট্রের ধুলে ও লাতুর জেলাতেও পাওয়া গেছে। ফলে রাজ্যজুড়ে সরকারি বেতন ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও দুর্বলতা পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।




