জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে মঞ্চে ডেকে নিজের পাশে বসান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই ড. ইউনূসকে আমন্ত্রণ জানালে তিনি মঞ্চে উঠে প্রধানমন্ত্রীর পাশে নির্ধারিত আসনে বসেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ড. ইউনূসের এ সৌজন্যমূলক মুহূর্তকে অনুষ্ঠানের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হিসেবে দেখা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে সৌহার্দ্যপূর্ণ মুহূর্ত, উপস্থিত অতিথিদের দৃষ্টি কাড়ে প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের মূল আনুষ্ঠানিকতা তখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি। অতিথিরা যার যার আসনে বসছেন। মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী, দুই মন্ত্রী, দুজন প্রতিমন্ত্রী ও একজন সচিব আসন গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তখনো আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে দর্শক সারিতেই বসা ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। কারণ, মঞ্চে তার জন্য কোনো আসন সংরক্ষিত ছিল না।
এক পর্যায়ে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে বিষয়টি। তিনি তখন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ডেকে ড. ইউনূসের জন্য মঞ্চে আসনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।
এসময়টিতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন চলছিল। এরপর শুরু হয় কোরআন তেলাওয়াত। তেলাওয়াত শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত মঞ্চে একটি আসনের ব্যবস্থা করা হয়। সেই আসনটি রাখা হয় প্রধানমন্ত্রীর পাশে।
এরপর ড. ইউনূস মঞ্চে উঠতেই প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে তাকে স্বাগত জানান। ড. ইউনূস মঞ্চে দাঁড়িয়ে উপস্থিত অতিথিদের উদ্দেশে সালাম জানান। পরে তিনি আসন গ্রহণ করেন।
এ সময় ড. ইউনূস বলেন, ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ইতিহাসের নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। এ জাদুঘর আমাদের ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দু হবে। এখান থেকেই নতুন বাংলাদেশের পথ শুরু হবে। পথ হারিয়ে গেলে আমরা এখান থেকেই শুরু করব।
দেশের তরুণরা যেন এই স্মৃতির লেখক হয়, আমরা নতুন বাংলাদেশ তৈরিতে চলে গেলাম।’
তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের জাদুঘর থাকলেও এ জাদুঘরের বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে বহু বছরের পুরনো ইতিহাস নয়, বরং গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনাগুলো ঘটার সঙ্গে সঙ্গে সেসবের স্মারক, দলিল, নিদর্শন ও মানুষের অনুভূতি সংগ্রহ করা হয়েছে।’
সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাদুঘরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন আলোকচিত্র, দলিল, ভিডিওচিত্র, ব্যক্তিগত স্মারক এবং আন্দোলনের নানা গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ২০২৪ সালের ঘটনাপ্রবাহ ও গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণ করা হবে।
৫ আগস্ট বিশেষ অতিথি ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য জাদুঘরটি সংরক্ষিত থাকলেও ৬ আগস্ট থেকে এটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।




