যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ডব্লিউইউএসটি)-এর ২০২৬ সালের সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত শনিবার (১৩ জুন) ফেয়ারফ্যাক্সের উডসন হাই স্কুল অডিটোরিয়ামে এ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এবারের সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯০ জন শিক্ষার্থী স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এর মধ্যে স্কুল অব ইনফরমেশন টেকনোলজি থেকে ১৮৩ জন এবং স্কুল অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে ১০৭ জন শিক্ষার্থী স্নাতক হন।
কালো গাউন আর হ্যাটের উপর ঝুলে থাকা সোনালি ট্যাসেলে সেজে শিক্ষার্থীরা সমাবর্তন আয়োজনে আসেন। তাদের পদচারণায় পুরো অডিটোরিয়াম উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও চেয়ারম্যান আবুবকর হানিপ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “আজ শুধু ডিগ্রি অর্জনের দিন নয়, এটি অধ্যবসায়, ত্যাগ এবং সম্ভাবনার উদযাপন।” তিনি দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির যুগে শিক্ষার্থীদের আজীবন শেখার মানসিকতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, “ভবিষ্যৎ তাদেরই, যারা পরিবর্তনকে ভয় না পেয়ে শেখে, মানিয়ে নেয় এবং এগিয়ে যায়।”
অনুষ্ঠানের মূল বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ টেক্সাস স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. খালিদ এইচ. আরার। তিনি ডব্লিউইউএসটির গ্রাজুয়েটদের স্মরণ করিয়ে দেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগেও মানবিক গুণাবলিই মানুষের প্রকৃত শক্তি।
ড. আরার শিক্ষার্থীদের আত্মপরিচয় জানার, নিজের শক্তি চিহ্নিত করার এবং অন্যদের জন্যও সুযোগ সৃষ্টি করারও আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “সফলতা শুধু নিজের অর্জনেই নিহিত নয়; বরং অন্যদের অর্জনে সহায়তা করার মধ্য দিয়েও সফলতা পরিমাপ করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ভার্জিনিয়া স্টেট সিনেটর সাদ্দাম আসলান সেলিম, উদ্যোক্তা রফিক হাওলাদার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএফও ফারহানা হানিপ। শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়, মানবিক মূল্যবোধ এবং পেশাগত উৎকর্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরেন তারা।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ফারহানা হানিপ বলেন, “আজ আপনারা আমাদের ক্যাম্পাস ছেড়ে যাচ্ছেন, কিন্তু আপনারা সবসময়ই ডব্লিউইউএসটি’র পরিবারের অংশ হয়ে থাকবেন।
সাদ্দাম আজলান সেলিম বলেন, “অধ্যবসায় এমন একটি শক্তি, যা কেউ আপনার কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারে না।”
আর রফিক হাওলাদার বলেন, “প্রযুক্তি শুধু আমাদের ব্যবহৃত সরঞ্জাম বদলে দেয়, কিন্তু পৃথিবীকে বদলে দেয় মানুষ।” শিক্ষার্থীদের সেই মানব সম্পদ হয়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন ভ্যালেডিক্টোরিয়ান রিথিন সাইন মানাপতি, শিক্ষা শেষে এরই মধ্যে গুগলে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দিয়েছেন ডব্লিউইউএসটির এই শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, “ডব্লিউইউএসটি আমাকে যে ভিত্তি দিয়েছে, তার ওপর দাঁড়িয়েই আমি আজকের এই অর্জনে নিশ্চিত করতে পেরেছি।”
অপর ভ্যালেডিক্টেরিয়ান এমবিএ গ্র্যাজুয়েট বিলগেন আতালেই বলেন, ডব্লিউইউএসটি-তে পড়াশোনা তাকে শুধু একাডেমিক জ্ঞানই দেয়নি, বরং দল পরিচালনা ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।
বিএসবিএ গ্র্যাজুয়েট মাহা সাজিদ ভবিষ্যৎকে ভয়ের নয়, সম্ভাবনার চোখে দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমার ডিগ্রি আমাকে শুধু একাডেমিক জ্ঞান দেয়নি; এটি আমাকে অভিজ্ঞতা, শিক্ষা এবং শিল্পখাতে কাজের জন্য প্রস্তুত একজন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে।”
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কে. বার্ক আনুষ্ঠানিকভাবে স্নাতকদের ডিগ্রি প্রদান ঘোষণা করেন। এরপর শিক্ষার্থীরা তাদের ট্যাসেল ঘুরিয়ে ছাত্রজীবন থেকে অ্যালামনাই জীবনে প্রবেশের প্রতীকী মুহূর্ত উদযাপন করেন। মুহূর্তের মধ্যেই শত শত গ্র্যাজুয়েশন ক্যাপ আকাশে উড়ে যায়, করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো অডিটোরিয়াম।




