দাবি পূরণ না হলে ১৬ ডিসেম্বর থেকে ভারত খেদাও আন্দোলন: জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ

🎧অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন
সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যার সুষ্ঠু বিচার, আন্তর্জাতিক নদীসমূহে ন্যায্য পানির হিস্যা আদায় এবং ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত সকল অসম চুক্তি বাতিলের দাবিতে তিন মাসের আল্টিমেটাম ঘোষণা করেছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ।
দলটি বলছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদের অবসান না হলে আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের দিবস থেকে ‘ভারত খেদাও’ আন্দোলন শুরু হবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ আয়োজিত ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে দলটির আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান বলেন, চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পরেও ভারত আগ্রাসী নীতি পরিবর্তন করেনি। দেশটি একদিকে জুলাই গণহত্যার দায়ে শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীদের গোপন আস্তানায় লুকিয়ে রেখেছে। আরেকদিকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে, মব সন্ত্রাস করে ও গুপ্তচরদের দিয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করছে।
তিনি অভিযোগ করেন, মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ঠেকাতে গুপ্ত আওয়ামী দালাল ও ভারতীয় তাবেদাররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবিভক্ত পাকিস্তান রাষ্ট্রের স্থপতি মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ভাংচুর করেছে। এ ঘটনায় বিএনপি সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে মক্কা চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া কঠিন হয়ে গেছে।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় ভারতকে দায়ী করে ভারতীয় হাইকমিশনারের লাগাতার বিভিন্ন মন্ত্রী ও সচিবের সাক্ষাৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে আগাম অনুমতি গ্রহণ ছাড়াই ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উচিত ত্রিবেদীর পায়ে ভিয়েনা কনভেনশনের বেড়ী পরানো।
খোমেনী ইহসান বলেন, আমরা চাই বিএনপি সরকার পাঁচ বছর ক্ষমতায় থেকে জুলাই বিপ্লব পরবর্তী দেশ পুনর্গঠন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাক। তবে সরকারকে টিকতে হলে মন্ত্রীপরিষদ ও প্রধানমন্ত্রীর চার পাশ থেকে ভারতপন্থীদের তাড়িয়ে প্রকৃত দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী নেতাদের দায়িত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতে সঙ্কট সৃষ্টি করে দেশে অরজকতা তৈরির ষড়যন্ত্রে ভারতের সম্পৃক্ততা আদানী গ্রুপের আচরণে প্রমাণিত। এ অবস্থায় সরকার ও দলে গুপ্ত আওয়ামী লীগ ও ভারতের তাবেদারদের তৎপরতা চলতে দেওয়া ঠিক হবে না। এদের বাদ না দিলে যেকোন সময় ওয়ান ইলেভেনের মতো দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা আছে।
জাতিয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক বলেন, বাংলাদেশে ভারতের তাবেদার গোষ্ঠী ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ এর মধ্যে বিরোধ তৈরির ষড়যন্ত্র করছে। তারা ১৯৪৮ সালে মারা যাওয়া জিন্নাহকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের জন্য দায়ী করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু বিগত ৫৫ বছর ধরে সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যা, ৫৪টি আন্তর্জাতিক নদীতে বাঁধ তৈরি ও ১০১টি অসম চুক্তির গোলামিতে বাংলাদেশকে আটকে ফেলার বিষয়ে তারা কথা বলছে না। তারা শেখ হাসিনাসহ জুলাই গণহত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে শাস্তি কার্যকরও চাচ্ছেন না।
তিনি বলেন, জুলাই গণহত্যার বিচার ও রাষ্ট্র পুনর্গঠন নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশে আর ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ এর মধ্যে বিরোধ তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না। এ বছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ভারতীয় আধিপত্যবাদমুক্ত বিজয় দিবস পালন করা হবে।
ড. ফরিদ উদ্দীন বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবসময় ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বলতেছেন। তার এ স্লোগান ভারতের বিরুদ্ধেও বজায় রাখতে হবে। আমরা আশা করি আগামী ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদান করতে যুক্তরাষ্ট্র সফরকালেও সবার আগে বাংলদেশ নীতিতে অটল থাকবেন। তিনি বিশ্ববাসীর কাছে ভারতীয় বাহিনী দ্বারা সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও আন্তর্জাতিক নদীসমূহে ন্যায্য পানির হিস্যার কথা তুলে ধরবেন।
জাস্টিস এন্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপির) প্রধান সংগঠক আহসান উল্লাহ বলেন, ভারত বাংলাদেশ বিরোধী সন্ত্রাসী সংগঠন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ও খুনিদের ভারতে আশ্রয় দিয়েছে। তারা কখনো আমাদের বন্ধু হতে পারে না। ভারত যদি এ দেশে অস্থিতিশীলতা করার চেষ্টা করে, তার সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।
বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াহেদের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন মুসলিম লীগের উপদেষ্টা জহির উদ্দীন বাবর, জেডিপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাত রাজ ও আবদুল হামিদ, মুসলিম লীগ নেতা খায়রুল ইসলাম, বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব সেলিম রেজা বাচ্চু প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নবাব সলিমুল্লাহ একাডেমির চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার, মুসলিম লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খান আসাদ, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সদস্য সাঈদুল ইসলাম, মুহাজির নেতা আবদুল ওয়াহিদ, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব মো: শফিকুর রহমান প্রমুখ।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…