যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত মারিয়া লুইজা রিবেইরো ভিয়োত্তির ভিসা সাময়িকভাবে বাতিল করেছে মার্কিন প্রশাসন। দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা ওয়াশিংটন ও ব্রাসিলিয়ার সম্পর্কের নতুন উত্তেজনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) জানানো হয়, মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ব্রাজিল ট্রাম্পের মনোনীত রাষ্ট্রদূত ড্যানি পেরেজের নিয়োগে এখনও সম্মতি দেয়নি। এর প্রতিক্রিয়াতেই ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ড্যানি পেরেজ রিপাবলিকান রাজনীতিক এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র। গত জুনে তাকে ব্রাজিলে রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রদূত ভিয়োত্তির ভিসা সাময়িকভাবে বাতিল করা হলেও তাকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হচ্ছে না। তিনি দেশটিতে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখতে পারবেন। একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকের ভিসা বাতিল করা এবং তাকে বহিষ্কার করা এক বিষয় নয়। রাষ্ট্রদূত আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবেন। তবে ব্রাজিলে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত প্রার্থী অনুমোদন পেলেই ভিয়োত্তির ভিসা পুনর্বহাল করা হবে।
ব্রাজিল সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক যোগাযোগের আগেই ট্রাম্প প্রকাশ্যে পেরেজের মনোনয়নের ঘোষণা দেন। ব্রাজিল সরকারের অভ্যন্তরীণ সূত্রের ভাষ্য, এটি প্রচলিত কূটনৈতিক প্রোটোকলের পরিপন্থী। এই কারণে পেরেজের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ব্রাসিলিয়া। ব্রাজিলের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া ড্যানি পেরেজ দেশটির রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবেন না।
গত মাসেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রম ব্যুরোর কয়েকজন কর্মকর্তাকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায় ব্রাজিল। রাষ্ট্রদূতদের নিয়ে দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ ওয়াশিংটন ও দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতি ব্রাজিলের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েনকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।



