
বুয়েনোস আইরেস, ৮ জুলাই – ফুটবল বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের সুদীর্ঘ ইতিহাসে শিরোপা ধরে রাখার অনন্য কীর্তি আছে মাত্র দুটি দলের। ভিত্তোরিও পোজোর ইতালি সর্বপ্রথম এই রেকর্ড গড়েছিল। এর ঠিক দুই দশক পর পেলে ও গারিঞ্চার জাদুতে সেই মহাকাব্যের পুনরাবৃত্তি ঘটায় ব্রাজিল। চিলির মাটিতে সেলেসাওদের সেই কীর্তির পর কেটে গেছে দীর্ঘ ৬৪ বছর।
বিশ্ব ফুটবলে অনেক রাজা এসেছেন, সিংহাসন বদলেছে কিন্তু রাজমুকুট ধরে রাখতে পারেনি কেউ। ২০২২ সালে কাতারের মরুদ্যানে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে ৩৬ বছরের শিরোপা খরা কাটিয়ে তৃতীয়বারের মতো সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিল আলবিসেলেস্তেরা। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আগামীতে উত্তর আমেরিকার মাটিতে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যদের সামনে সুযোগ রয়েছে ইতিহাসের সেই এলিট ক্লাবে প্রবেশ করার।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, শিরোপা ধরে রাখার মিশন কতটা কঠিন হতে পারে। ১৯৯৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ২০২২ সালে টানা দ্বিতীয়বার ট্রফি জয়ের খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। কিন্তু লুসাইল স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার কাছে পেনাল্টি শুটআউটে তাদের সেই স্বপ্ন চূর্ণ হয়।
এর আগে ১৯৯০ সালেও দিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা ১৯৮৬ সালের শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে ফাইনালে উঠেছিল। তবে জার্মানির কাছে হেরে সেদিন অশ্রুসিক্ত চোখে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাদের।
ফুটবল বিশ্বকাপের দ্বিতীয় আসরটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৩৪ সালে। সেবার চেকোস্লোভাকিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইতালি। পরের আসরে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে হাঙ্গেরিকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বজয় করে তারা। পরবর্তীতে ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে টানা দুবার বিশ্বকাপ জেতে ব্রাজিল।
১৯৫৮ সালের ফাইনালে সুইডেনকে ৫-২ গোলে এবং ১৯৬২ সালে চেকোস্লোভাকিয়াকে ৩-১ ব্যবধানে হারায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ইতালি ও ব্রাজিলের পর এখন টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে আর্জেন্টিনার সামনে। বর্তমান দলটির ছন্দ ও শক্তিমত্তা ভক্তদের নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। যদি তারা এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে, তবে ফুটবল ইতিহাসের চতুর্থ শিরোপার পাশাপাশি টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বজয়ের নতুন রেকর্ড গড়বে আর্জেন্টিনা।
এনএন/ ৮ জুলাই ২০২৬






