
রোম, ২৮ জুন – অধিনায়ক হিসেবে ইতালিকে বিশ্বকাপ জেতানো ফাবিও কান্নাভারো এবার কোচ হিসেবে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ডাগআউটে দাঁড়িয়ে টুর্নামেন্টের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হলেন। টানা তিন ম্যাচে পরাজিত হয়ে নিজেদের অভিষেক বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করেছে উজবেকিস্তান।
তবে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের পরও কান্নাভারোর মুখে হাসি দেখা গেছে। এই হাসির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি নিজের আগের মন্তব্য পুনরুল্লেখ করে বলেন যে বিশ্বকাপ আসলে খুবই নির্মম একটি জায়গা। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে কলম্বিয়ার কাছে পরাজিত হওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে যায় উজবেকিস্তান।
এরপর শেষ ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে দীর্ঘ সময় লিড ধরে রেখেও শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলে হার মানতে হয় তাদের। পর্তুগাল ও ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পরাজয়ের পর কান্নাভারোর হাসিমুখ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ইতালির এই সাবেক তারকা জানান যে তার হাসির আড়ালে কোনো অনীহা নয় বরং বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার চেষ্টা ছিল।
কান্নাভারো সংবাদ সম্মেলনে বলেন যে হারলে কেউ ভালো অনুভব করে না এবং তিনিও হারতে পছন্দ করেন না। তিনি স্বীকার করেন যে দলের পক্ষ থেকে কিছু ভুল হয়েছে তবে তিনি নিজের খেলোয়াড়দের দোষারোপ করতে রাজি নন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ড্র হওয়ার পরপরই তিনি সবাইকে সতর্ক করেছিলেন যে এই টুর্নামেন্টটি অত্যন্ত কঠিন হতে যাচ্ছে।
খেলোয়াড়রা তাদের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছে এবং ড্রেসিংরুমে তারা এই ফলাফলের জন্য অত্যন্ত মর্মাহত। অভিষেক বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিলেও দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এই কিংবদন্তি।
উজবেকিস্তানের ফুটবল উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কান্নাভারো বলেন যে একাডেমিগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। তরুণ ফুটবলারদের সঠিক পরিচর্যার জন্য অর্থ ব্যয় করতে হবে। আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে উজবেকিস্তানকে নিয়মিত বিশ্বকাপে দেখতে চাইলে এছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।
এস এম/ ২৮ জুন ২০২৬






