মারা গেছেন কবি ভাস্কর চৌধুরী | চ্যানেল আই অনলাইন

মারা গেছেন কবি ভাস্কর চৌধুরী | চ্যানেল আই অনলাইন

মারা গেছেন ‘আমার বন্ধু নিরঞ্জন’ খ্যাত কবি ভাস্কর চৌধুরী। রবিবার (২৮ জুন) রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

পরিবারের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ভাস্কর চৌধুরীর ফেসবুক পেজেও জানানো হয়, তাকে তার জন্মস্থান চাঁপাইনবাবগঞ্জে সমাহিত করা হবে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৫ জুন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তার খাদ্যনালীতে টিউমার ধরা পড়ে। পাশাপাশি ফুসফুসে পানি জমা এবং উচ্চমাত্রার ডায়াবেটিসজনিত জটিলতায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। শেষ পর্যন্ত সব চিকিৎসা প্রয়াস ব্যর্থ করে চলে গেলেন বাংলা সাহিত্যের এই স্বতন্ত্র কণ্ঠ।

১৯৫২ সালের ১৭ নভেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের রাজারামপুরের ভবানীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ভাস্কর চৌধুরী। তার পিতার নাম নুরুল ইসলাম। ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্যচর্চা শুরু করেন তিনি। লিটল ম্যাগাজিন থেকে শুরু করে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় নিয়মিত লিখেছেন গল্প, কবিতা, উপন্যাস ও প্রবন্ধ। সরকারি চাকরিতে যুক্ত থাকলেও লেখালেখি কখনও থামাননি।

তার প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা প্রায় চল্লিশ। গল্পগ্রন্থ ‘রক্তপাতের ব্যাকরণ’ দিয়ে সাহিত্যে আলোচনায় আসেন তিনি। দীর্ঘ কবিতা ‘নিরঞ্জন আমার বন্ধুর নাম’ (যা ‘আমার বন্ধু নিরঞ্জন’ নামে অধিক পরিচিত) দুই বাংলার আবৃত্তিপ্রেমীদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত।

সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর জীবন, সংগ্রাম ও সংস্কৃতি নিয়ে লেখা তার মহাকাব্যিক উপন্যাস ‘ধনসা মাতি ও তার জীবনবৃক্ষ’ পাঠক ও সমালোচকমহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে— রক্তপাতের ব্যাকরণ, বাষট্টি বিঘা নদী, কোথায় নিবাস, পতনের সময়, শনিবারে বৃষ্টি, লালমাটি কালো মানুষ, স্বপ্নপুরুষ, মীমাংসা পর্ব, আষাঢ়ের জীবনদর্শন, ভূমি, কৃষ্ণপুরাণ, কখনও কখনও এরকম ঘটে, আমার কেবলই সমর্পণ, নিরঞ্জন আমার বন্ধুর নাম, আমার ভেতরে আঁধার, পরাণের গহীন, তোর বড় কষ্টরে প্রভৃতি।

বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটি, মানুষ, লোকজ সংস্কৃতি এবং আদিবাসী জীবনের সুখ-দুঃখ ছিল তার সাহিত্যকর্মের প্রধান অনুষঙ্গ। বাংলা সাহিত্যে তিনি রেখে গেছেন নিজস্ব স্বর ও এক সমৃদ্ধ সৃষ্টিভুবন। তার মৃত্যুর খবর চাউর হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক জানাচ্ছেন সমকালীন কবি ও লেখকরা।

Scroll to Top