বিমানভাড়া ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে চলতি গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের চিত্রে স্পষ্ট মন্দা দেখা দিয়েছে। ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রায় ৪৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এ মৌসুমে ছুটিতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৈশ্বিক বিমান পরিবহন খাতের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে।
বুধবার ৮ জুলাই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আল জাজিরা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এক যৌথ জরিপে দেখা গেছে, বিমান ভাড়া এবং সড়কপথে ভ্রমণের জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল বা স্থগিত করেছেন। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে, যা বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয় আরও বৃদ্ধি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (টিএসএ) তথ্য অনুযায়ী, ৪ জুলাইয়ের ছুটির সপ্তাহান্তে দেশটির বিমানবন্দরগুলো দিয়ে প্রায় ৭৩ লাখ যাত্রী ভ্রমণ করেছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ কম। এদিকে, মার্কিন শ্রম বিভাগের তথ্য বলছে, ফেব্রুয়ারি থেকে বিমানভাড়া ৮ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের কারণে বড় বড় বিমান সংস্থাগুলোও ভাড়া বাড়াতে এবং কিছু রুটে ফ্লাইট কমাতে বাধ্য হয়েছে।
ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স আগেই জানিয়েছিল, পরিচালন ব্যয় সামাল দিতে কিছু রুটে ভাড়া ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। একইভাবে আমেরিকান এয়ারলাইন্সও আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের জন্য কয়েকটি রুটে ফ্লাইট কমিয়েছে। আর দীর্ঘদিনের বাজেট এয়ারলাইন স্পিরিট এয়ারলাইন্স জ্বালানি ব্যয় ও ভূরাজনৈতিক সংকটের প্রভাব সামাল দিতে না পেরে কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুম থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বিমান সংস্থাগুলো তাদের বার্ষিক আয়ের বড় একটি অংশ অর্জন করে। ফলে এসময়ে যাত্রীসংখ্যা কমে যাওয়া শিল্পটির আর্থিক চাপে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, ইউরোপের বিমান খাতেও প্রভাব ফেলেছে। ইরান, ইরাক ও লেবাননের আকাশসীমা এড়িয়ে দীর্ঘপথে চলাচল করতে হওয়ায় ইউরোপীয় এয়ারলাইন্সগুলোর জ্বালানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই কারণে কিছু সংস্থা ব্যয় কমাতে ফ্লাইট সংখ্যা হ্রাস করেছে। অন্যদিকে, এশিয়ার কয়েকটি বিমান সংস্থা তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপগামী কিছু রুটে যাত্রী চাহিদা বাড়ার কথা জানিয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক কয়েকটি এয়ারলাইন।



