যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান জন এফ কেনেডি পারফর্মিং আর্টস স্মৃতি কেন্দ্রের নামের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম আপাতত যুক্ত করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন দেশটির আপিল আদালত। ফলে মামলার আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রটির ভবন ও সাইনবোর্ডে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করা যাবে না।
আজ ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আল জাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনের আপিল আদালতের তিন বিচারপতির বেঞ্চ ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ করে নিম্ন আদালতের দেওয়া আদেশ বহাল রাখেন। এর আগে গত মাসে জেলা বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার কেন্দ্রটির নাম থেকে ট্রাম্পের নাম অপসারণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রটি সংস্কারের জন্য বন্ধ করার প্রশাসনের পরিকল্পনাও স্থগিত করেন।
ওই রায়ের পর ভবনের সম্মুখভাগ ও বিভিন্ন সাইনবোর্ড থেকে ট্রাম্পের নাম সরিয়ে ফেলা হয়। চলতি বছরের শুরুতে দায়িত্ব গ্রহণের পর ট্রাম্প কেনেডি সেন্টারের ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠন করেন এবং নিজেই বোর্ডের চেয়ারম্যান হন। এরপর কেন্দ্রটির নাম পরিবর্তন করে তার নিজের নাম যুক্ত করা হয়। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই আইনি বিরোধের সূত্রপাত হয়।
মামলাটি করেন কেন্দ্রটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও ডেমোক্র্যাট দলের কংগ্রেস সদস্য জয়েস বিটি। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, আদালতের এ সিদ্ধান্ত আবারও প্রমাণ করেছে যে কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ আইনসম্মত ছিল না। তার ভাষায়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের একটি জাতীয় স্মৃতিচিহ্ন, যেখানে ট্রাম্পের নাম থাকার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
আপিল আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, আপিল চলাকালে ট্রাম্পের নাম না থাকলে ট্রাস্টি বোর্ডের অপূরণীয় ক্ষতি হবে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি। বোর্ডের দাবি ছিল, নাম অপসারণের ফলে তহবিল সংগ্রহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে আদালত সেই দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ খুঁজে পাননি।
এই রায়ের ফলে কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তন নিয়ে চলমান আইনি লড়াইয়ে ট্রাম্প প্রশাসন আরেকটি ধাক্কা খেল। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রটির নামের সঙ্গে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার সুযোগ থাকছে না।



