বিপিএল নিলাম: জানার আছে যা কিছু | চ্যানেল আই অনলাইন

বিপিএল নিলাম: জানার আছে যা কিছু | চ্যানেল আই অনলাইন

এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ

৬ দলের অংশগ্রহণে আগামী ডিসেম্বরে পর্দা উঠবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসর। আসন্ন আসর দিয়ে ফিরছে খেলোয়াড়দের নিলাম পদ্ধতি। আগামী ৩০ নভেম্বর রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে নিলাম।

আগামী ডিসেম্বরের শেষদিকে গড়াবে বিপিএল। আসরে অংশ নেবে রংপুর রাইডার্স, ঢাকা ক্যাপিটালস, সিলেট টাইটানস, চট্টগ্রাম রয়্যালস, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস। ইতিমধ্যেই দল সাজানো শুরু করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো।

নিলামের আগে বিভিন্ন শ্রেণিতে খেলোয়াড়দের ভিত্তিমূল্যসহ নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। নিলামের আগে জেনে নিন খুঁটিনাটি।

ড্রাফটে জায়গায় পেয়েছেন ৪০৩ জন ক্রিকেটার। এর মধ্যে আছেন ১৫৮ জন বাংলাদেশের ক্রিকেটার। ছয় ক্যাটাগরিতে ভাগ করে ড্রাফট প্রস্তুত করা হয়েছে। বিদেশি ২৪৫ জন ক্রিকেটারকে পাঁচ ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে।

বিপিএল নিলাম: জানার আছে যা কিছু | চ্যানেল আই অনলাইন

নিলামের আগে সরাসরি চুক্তির সুযোগ রেখেছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। দুজন করে বাংলাদেশি (এ ও বি ক্যাটাগরি) এবং বিদেশি খেলোয়াড় দলে নিতে পারবে। সেক্ষেত্রে অবশ্য খেলোয়াড়দের দাম নিয়ে বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।

নিলাম থেকে ১২ জন দেশীয় খেলোয়াড় নেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সরাসরি চুক্তিসহ সর্বোচ্চ ১৪ জন স্থানীয় খেলোয়াড়কে নিবন্ধন করাতে হবে। স্থানীয় খেলোয়াড়ের জন্য একটি দলের সর্বোচ্চ বাজেট ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তবে সরাসরি সাইনিং করা দুজন ক্রিকেটারের পারিশ্রমিক এর বাইরে থাকবে।

ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো যত ইচ্ছা বিদেশি ক্রিকেটার নিবন্ধন করাতে পারবে। তবে এক ম্যাচে বিদেশি খেলানো যাবে কমপক্ষে দুজন ও সর্বোচ্চ চারজন। নিলাম থেকে কিনতে হবে অন্তত দুজন বিদেশি খেলোয়াড়। বিদেশি খেলোয়াড়দের জন্য দল প্রতি সর্বোচ্চ দলীয় বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। নিলামের আগে দুজন খেলোয়াড়কে সরাসরি দলে নেওয়া যাবে। নিলামে কোনো দল নির্ধারিত বাজেটের বাইরে খেলোয়াড় কিনতে পারবে না।

দেশি ক্রিকেটারদের ‘এ’ ক্যাটাগরির ভিত্তিমূল্য ৫০ লাখ টাকা। ‘বি’ ৩৫ লাখ, ‘সি’ ২২ লাখ, ‘ডি’ ১৮ লাখ, ‘ই’ ১৪ লাখ টাকা এবং এফ ক্যাটাগরির ভিত্তিমূল্য ১১ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। নিলামে প্রতি ডাকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ৫ লাখ টাকা করে বাড়বে। ‘বি’ ৩ লাখ টাকা, ‘সি’ ১ লাখ টাকা, ‘ডি’ ৫০ হাজার টাকা, ‘ই’ ৩০ হাজার টাকা এবং এফ ক্যাটাগরিতে বাড়বে ২০ হাজার টাকা করে।

‘এ’ ক্যাটাগরি থেকে অন্তত একজন ক্রিকেটার নিতে হবে। পরবর্তীতে যথাক্রমে ‘বি’, ‘সি’ ও ‘ডি’ ক্যাটাগরি থেকে অন্তত তিনজন করে ক্রিকেটার নিতে হবে। ‘ই’ ক্যাটাগরি থেকে অন্তত ২ জন এবং ‘এফ’ ক্যাটাগরি থেকে ইচ্ছে মতো নিতে পারবে দলগুলো।

বিদেশি ক্রিকেটারদের ‘এ’ ক্যাটাগরির ভিত্তিমূল্য ৩৫ হাজার ডলার। ‘বি’ ২৬ হাজার ডলার, ‘সি’ ২০ হাজার ডলার, ‘ডি’ ১৫ হাজার ডলার এবং ‘ই’ ক্যাটাগরির ভিত্তিমূল্য ১৫ হাজার ডলার। ক্যাটাগরি অনুসারে নিলামে যথাক্রমে প্রতি ডাকে ‘এ’ ক্যাটাগরি থেকে বাড়বে ৫ হাজার ডলার, ‘বি’ ৩ হাজার ডলার, ‘সি’ ২ হাজার ডলার, ‘ডি’ ১ হাজার ৫০০ ডলার এবং ‘ই’ ১ হাজার ডলার। নিলাম থেকে কমপক্ষে দুইজন বিদেশি ক্রিকেটার কিনতে হবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে।

ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে নিলামে বিক্রি হওয়া খেলোয়াড়দের অর্থ দিতে হবে তিনটি ধাপে। প্রথম কিস্তি চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ২৫ শতাংশ, দ্বিতীয় কিস্তি দলের শেষ লিগ ম্যাচের আগে ৫০ শতাংশ, তৃতীয় কিস্তি টুর্নামেন্ট শেষে ৩০ দিনের মধ্যে বাকি ২৫ শতাংশ। সব অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দিতে হবে এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ম অনুযায়ী কর কাটা হবে।

চূড়ান্ত দলের তালিকা নিলাম শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের কাছে জমা দিতে হবে। সব খেলোয়াড়ের চুক্তি হবে বিসিবির নির্ধারিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তিপত্রে।

নিলামসংক্রান্ত কোনো নিয়মে লঙ্ঘন, প্রভাব খাটানো বা অনিয়ম করলে বিড বাতিল, অর্থদণ্ড ও ফ্র্যাঞ্চাইজি স্থগিত বা বাতিলের মতো শাস্তি হতে পারে। সব ধরনের অভিযোগ বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল তদন্ত করবে এবং তাদের সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত।

এছাড়া সব খেলোয়াড়কে দলে যোগ দেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফিটনেস টেস্টে উত্তীর্ণ হতে হবে। স্থানীয় ও বিদেশি ক্রিকেটারদের ভিন্ন ভিন্ন ফর্মে নিবন্ধন করতে হবে অনলাইনে। প্রতিটি ম্যাচের অন্তত ৪ ঘণ্টা আগে ১৫ সদস্যের স্কোয়াড বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের নির্ধারিত ই-মেইলে পাঠাতে হবে।

Scroll to Top