বিধানসভা নির্বাচনে স্ট্রংরুম এবং ভোট গণনাকেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার | চ্যানেল আই অনলাইন

বিধানসভা নির্বাচনে স্ট্রংরুম এবং ভোট গণনাকেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার | চ্যানেল আই অনলাইন

আগামী ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনাকে সামনে রেখে কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) এবং ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মধ্যে উত্তেজনা চরম রূপ নিয়েছে।

বিশেষ করে নির্বাচনে স্ট্রংরুমের পাহারা নিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে পারস্পরিক দোষারোপ একেবারেই তুঙ্গে। এমন অবস্থায় বিভিন্ন জেলায় থাকা স্ট্রংরুম এবং ভোট গণনাকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন।

পাশাপাশি স্ট্রংরুমের সামনে পাহারা দিচ্ছেন রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মী-সমর্থকরা।

গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় রাজ্যের ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট হয়েছিল। ভোটের পর ইভিএম পৌঁছায় নির্দিষ্ট স্ট্রংরুমে। সেই সময় থেকেই স্ট্রংরুমের বাইরে নজরদারি শুরু করেছিল রাজনৈতিক দলগুলো। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমের ভিতরে ‘সন্দেহজনক গতিবিধির’ অভিযোগ তোলে তৃণমূল। স্ট্রংরুমের বাইরে অবস্থানে বসেন বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ এবং শ্যামপুকুরের শশী পাঁজা। তারই মধ্যে মমতা পৌঁছে যান দক্ষিণ কলকাতার সাখাওয়াত হোসেন মেমোরিয়াল স্কুলের ভোটগণনা কেন্দ্রের স্ট্রংরুমে।

ওই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার রাত থেকেই জেলায় জেলায় রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে তৎপরতা দেখা যায়। বহু জায়গায় ঝড়বৃষ্টির মধ্যেই স্ট্রংরুমের সামনে হাজির হন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। পাল্টা জড়ো হন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরাও।

প্রশাসন সূত্রে খবর, আপাতত প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে দুই স্তরের নিরাপত্তা রয়েছে। গণনার দিন তিন স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা যে সমস্ত কর্মীকে পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছেন, তাদের বিশেষ অনুমতিপত্র দেওয়া হচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী তথা দিনহাটার তৃণমূল প্রার্থী উদয়ন গুহ বলেন, “আধা ঘণ্টা করে তিনটি শিফটে আমাদের লোক সর্বক্ষণ নজরদারি করছে।”

অপর দিকে বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি বিরাজ বসু বলেন, “আমাদের দলের পক্ষ থেকে প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে দু’জন করে লোক তিনটি শিফটে ২৪ ঘণ্টা নজর রাখছে।”

বাঁকুড়া জেলার ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম রাখা হয়েছে জেলার তিনটি স্ট্রংরুমে। স্ট্রংরুমে তিন স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে। স্ট্রংরুমের একেবারে সামনের দু’টি স্তরে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। স্ট্রংরুম চত্বরের বাইরে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে রাজ্য পুলিশ। ২৪ ঘণ্টা সিসি ক্যমেরার মাধ্যমে স্ট্রংরুমে নজরদারি চালাচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী এবং প্রার্থীরা। নদিয়া জেলার গণনাকেন্দ্র এবং স্ট্রংরুমগুলিও নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। প্রতিটি স্ট্রংরুমের দরজার সামনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দু’জন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে প্রতিটি গতিবিধির উপর ২৪ ঘণ্টা নজর রাখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে ভিডিওর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে প্রতিটি কক্ষে।

নদিয়ায় প্রতিটি গণনাকেন্দ্রের বাইরে বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীরা তাঁবু খাটিয়ে বা নির্দিষ্ট অস্থায়ী আস্তানায় একত্র হয়ে পাহারা দিচ্ছেন। অনেক জায়গায় প্রশাসন অনুমোদিত সিসিটিভি ফুটেজের ডিসপ্লেতে সরাসরি নজর রাখছেন বিজেপি, তৃণমূল, বাম এবং কংগ্রেস কর্মীরা।

হুগলি জেলার ১৮টি কেন্দ্রের ভোটগণনা হবে চারটি মহকুমায়। তার জন্য কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে কমিশনের পক্ষ থেকে। পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এই জেলাতেও রাজনৈতিক দলের কর্মীরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজের উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন। হাওড়ার স্ট্রংরুমগুলিতেও তিন স্তরের নিরাপত্তা রয়েছে। বাইরে বসানো হয়েছে একাধিক সিসি ক্যামেরা। সেই সিসি ক্যামেরার ফুটেজের উপর নজর রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছে ‘মনিটারিং রুম’। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এজেন্টরা ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাচ্ছেন।

শুক্রবার হাওড়া ময়দানের যোগেশচন্দ্র গার্লস স্কুলে স্ট্রংরুম পরিদর্শনে যান বিদায়ী সরকারের মন্ত্রী মধ্য হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অরূপ রায়।

শুক্রবারও স্ট্রংরুমের সুরক্ষা নিয়ে বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনার খবর এসেছে। পূর্ব মেদিনীপুরের এগরায় পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখিয়েছে তৃণমূল।

তৃণমূলের অভিযোগ, এগরা থানার আইসি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে পটাশপুরের বিজেপি প্রার্থী তপন মাইতিকে স্ট্রংরুমের ভিতরে নিয়ে গিয়েছিলেন। তার পরেই আইসিকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ হয়। ওই জেলারই হলদিয়ায়, ডিসিআরসি সেন্টারে এক মহিলা ভুয়া পরিচয়পত্র নিয়ে ভিতরে ঢোকেন বলে অভিযোগ তৃণমূলের।

তৃণমূলের বক্তব্য, ওই মহিলা নিজেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি দফতরের কর্মী বলে পরিচয় দেন। পরে দেখা যায়, তার ওই পরিচয়পত্রটি ভুয়া। এই ঘটনায় কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে তৃণমূল। সিসি ক্যামেরার একটি ফুটেজও প্রকাশ্যে এনেছে তারা। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

Scroll to Top