বাব এল-মান্দেব দখল: হুথি তাড়াতে ব্রিটেনের কাছে সাহায্য চাইল সৌদি – DesheBideshe



রিয়াদ, ১৬ সেপ্টেম্বর – মধ্যপ্রাচ্যে বহমান উত্তেজনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘বাব এল-মান্দেব’ প্রণালি দখল করে নিয়েছে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি যোদ্ধারা। এতে চরম বেকায়দায় পড়ে হুথি বাহিনীকে মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের কাছে সরাসরি সামরিক সহযোগিতা চেয়েছে সৌদি আরব।

সংবাদ মাধ্যম মিডলইস্ট আই ও মার্কিন সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সরকার সৌদির এই অনুরোধ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। লন্ডন যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়নি, তবে বার্নহ্যাম সরকার এই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে পরামর্শক সহায়তার জন্য দ্রুত রিয়াদে একটি সামরিক বিশেষজ্ঞ দল পাঠাতে পারে।

সংকটের নেপথ্যে: কেন বিপজ্জনক হয়ে উঠল পরিস্থিতি?

গত প্রায় সাত মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের ফলে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে নিজেদের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি অক্ষুণ্ণ রাখতে এই বিকল্প জলপথের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল সৌদি আরব।

কৌশলগত হাতছাড়া: গত ১১ সেপ্টেম্বর ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ সংকীর্ণ **বাব এল-মান্দেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ** নেয় হুথি যোদ্ধারা।

বিশ্ব বাণিজ্যে প্রভাব: সমুদ্র উপকূলে উৎপাদিত মধ্যপ্রাচ্যের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১২ শতাংশ পরিবহন করা হয় এই বাব এল-মান্দেব দিয়ে। সুয়েজ খালের নৌরুটও এই প্রণালির ওপর সরাসরি নির্ভরশীল।

যুক্তরাজ্যে জ্বালানি সংকট: তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় ইতিমধ্যেই ব্রিটেনে তেলের মূল্য বাড়ছে, যা প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সরকারকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বড় ধরনের চাপে ফেলেছে।

এক নজরে পরাশক্তি ও সৌদি আরবের কূটনৈতিক পদক্ষেপ

বাব এল-মান্দেব হাতছাড়া হওয়ার পরপরই সামরিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করেছে সৌদি রাজপরিবার।

  • যুক্তরাজ্য (UK) সামরিক সাহায্য সংক্রান্ত অনুরোধটি বিবেচনাধীন রেখেছে
  • যুক্তরাষ্ট্র (US) যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিমান অভিযানের অনুরোধে ইতিবাচক সায় দেয়নি। তবে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা দেবে। |
  • সৌদি আরব (KSA) মিত্র দেশগুলোকে সাথে নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে বাব এল-মান্দেব প্রণালি পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। |

ইরান যুদ্ধ এবং হুথিদের যৌথ তৎপরতায় লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের এই সংযোগস্থল সচল না হলে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন জ্বালানি ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা।

এনএন/ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Scroll to Top