বসতি স্থাপন ইস্যুতে ব্রিটেন ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা: পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি – DesheBideshe



ব্রিটেন ও ইসরাইল

তেল আবিব, ২ সেপ্টেম্বর – পশ্চিম তীরে ইসরাইলের অবৈধ বসতি সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে ব্রিটেন ও ইসরাইলের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। লন্ডন এই বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইলও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার এক সাক্ষাৎকারে জানান, ব্রিটেন যদি তাদের বিরুদ্ধে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তবে ইসরাইলও চুপচাপ বসে থাকবে না। তিনি ব্রিটিশ সরকারের সম্ভাব্য এই পদক্ষেপকে বড় ধরনের ভুল হিসেবে উল্লেখ করেন।

এর আগে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতি থেকে আসা পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশটির নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে। বর্তমান উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে পশ্চিম তীরের বিতর্কিত ই-১ বসতি প্রকল্প।

ব্রিটিশ সরকারের আশঙ্কা, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীরের ভৌগোলিক অখণ্ডতা নষ্ট হবে এবং ভবিষ্যৎ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউজ অব কমন্সে এই প্রকল্পের দ্রুত দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানানো হয়েছে।

বলা হচ্ছে, ইসরাইলের নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে এই প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হলে ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংকটের দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড ই-১ প্রকল্পকে আন্তর্জাতিক রীতির চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তিনি জানান, ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো যাতে এই বসতি এলাকায় অর্থায়ন বা নির্মাণকাজে অংশ নিতে না পারে, সেই পথ খুঁজছে সরকার। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে ইসরাইলের বসতিগুলোর বৈধতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা ব্রিটিশ সরকারের নতুন নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এছাড়া পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতারও কড়া নিন্দা জানিয়েছে লন্ডন। সব মিলিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে নতুন করে ফাটল ধরার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এস এম/ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Scroll to Top