জল্পনা-কল্পনার শেষে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন থমাস ডুলি। শুক্রবার ঢাকায় এসেছেন বিশ্বকাপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দেয়া সাবেক ফুটবলার। শোনালেন আশার কথা। র্যাংকিংয়ে উন্নতি ও ফুটবল দর্শনে পরিবর্তনের লক্ষ্য তার।
শুক্রবার জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘কুল-বিএসপিএ স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’। দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসপিএ) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের সেরা ক্রীড়াবিদদের হাতে তাদের অবদানের স্বীকৃতি তুলে দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি অতিথিদের চমকে দেন থমাস। জানান, এক বছরের মধ্যে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশকে ১৫০-১৬০ এর নিচে আনতে চান। তবে এই পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি একে একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বলেছেন, ‘আমি ফুটবল খেলতে ভালোবাসি, ফুটবলের পেছনে শুধু শুধু ছুটতে পছন্দ করি না। আমার খেলোয়াড়দেরও সবসময় বলি যে, বলের পেছনে অনর্থক দৌড়ানো আমি পছন্দ করি না। এতে কোনো লাভ ছাড়াই কেবল দৌড়াতে হয়, আর বেশিরভাগ সময়ই বল ফেরত পাওয়া যায় না।’
সাবেক এই ফুটবলার মূলত মাঠে সুন্দর ও আকর্ষণীয় ফুটবল উপহার দেওয়ার মাধ্যমে দলের একটি স্থায়ী ভিত্তি তৈরি করতে চান। সাফল্যের জন্য খেলোয়াড়দের মানসিকতা পরিবর্তন এবং কঠোর পরিশ্রমের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন তিনি। নিজের লেখা বই ‘দ্য ট্রুথ অ্যাবাউট সাকসেস ইন সকার দ্যাট নো ওয়ান টিচেস’-এর সূত্র টেনে বলেছেন, ‘ফুটবলে সাফল্যের চারটি স্তম্ভের একটি হলো মানসিকতা, যা কোনো প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নয়, বরং চিন্তা করার ধরন থেকে তৈরি হয়।’
‘এখানে যত চ্যাম্পিয়নরা আছেন, তারা সবাই কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এই পর্যায়ে পৌঁছেছেন। আমাদের খেলোয়াড়দের তাদের সাথে কথা বলা দরকার যে, এই জায়গায় আসতে তারা কী কী ত্যাগ স্বীকার করেছেন। যেকোনো পুরস্কার পাওয়ার আগে কঠোর পরিশ্রম করা এবং জীবনের কিছু না কিছু ত্যাগ করতে প্রস্তুত থাকা অত্যন্ত জরুরি, যারা এটি করতে চায়, তারাই সফল হতে পারে।- যোগ করেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে এশিয়ায় কাজ করার অভিজ্ঞতা ও এই অঞ্চলের ফুটবলের প্রতি তার গভীর টান থেকেই বাংলাদেশের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন থমাস ডুলি। অতীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান ও ফিলিপিন্স জাতীয় দলের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা স্মরণ করে বলেছেন, ‘আমি বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতিকে ভালোবাসি। অনেক ভিন্ন ভিন্ন দেশ দেখলেও আমি সবসময় এশিয়ায় ফিরে আসার স্বপ্ন দেখতাম।’
থমাস জানান, মালয়েশিয়া এবং ফিলিপিন্সে কাজ করার সুবাদে বাংলাদেশের ফুটবলের আবেগ ও মানুষের ফুটবলপ্রেম সম্পর্কে তার আগেই ধারণা ছিল। তাই প্রধান কোচের পদটি খালি হতেই তিনি আবেদন করেন। বাংলাদেশ থেকে ফিলিপাইন ও নিজের দেশ জার্মানির ভৌগোলিক নৈকট্যের সুবিধাও এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
বিগত ২৩ বছর ধরে বাংলাদেশের ফুটবলে বড় কোনো ট্রফি বা সাফল্য নেই। শিরোপা খরা কাটাতে বাস্তববাদী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন থমাস। জার্মান ফুটবলের উদাহরণ টেনে বলেছেন, ‘আমি জার্মানি থেকে এসেছি। জার্মানিতেও একই অবস্থা, সেখানেও হয়তো বাইরে ১০ লাখ কোচ আছেন এবং তারা সবাই সব বোঝেন। সেটা ভালো এবং গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে।’
থমাস ডুলি ফিলিপাইনকে এশিয়া কাপে উঠিয়েছেন, ক্লাব পর্যায়েও ভালো ফলাফল রয়েছে তার। অন্য দিকে খেলোয়াড় হিসেবে তিনি টানা দুই বিশ্বকাপ খেলেছেন এবং আমেরিকার অধিনায়কত্ব করেছেন ১৯৯৮ বিশ্বকাপে।




