বৃহস্পতিবার রাতে এক উত্তপ্ত মুহূর্তের সাক্ষী হল ৭৬তম ফিফা কংগ্রেস সভা। একই মঞ্চে মুখোমুখি হন ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) সভাপতি জিবরিল রাজুব ও ইসরায়েল ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার (আইএফএ) সহ-সভাপতি বাসিম শেখ সুলাইমান। সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর আমন্ত্রণে মঞ্চে আসেন দুজনে। সেসময় ফিলিস্তিনের ফুটবল প্রধান ইসরায়েল সহ-সভাপতিকে দেখে তীব্র প্রতিবাদ জানান, হাত মেলাতেও অস্বীকৃতি জানান।
কংগ্রেসে ভাষণ দেয়ার পর, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তাদের মঞ্চে ডেকে নেন। তারা একে অপরের থেকে বেশ দূরে দাঁড়ান এবং মঞ্চ ছাড়ার আগে রাজুব মাইক্রোফোন থেকে দূরে গিয়ে উচ্চস্বরে প্রতিবাদ জানান। কংগ্রেসের আগেই বক্তব্য রেখে রাজুব ফিফাকে জানান, পশ্চিম তীরের বসতির ক্লাবগুলোকে অনুমতি দিয়ে ইসরায়েল বৈষম্যবিরোধী আইন লঙ্ঘন করেছে।
রাজুব আবেগঘন হয়ে বলেন, ‘ইসরায়েলের ফিফার অংশ হওয়ার আদৌ কোন অধিকার আছে? আমার পক্ষ থেকে এখনও ফিফা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়াকে সম্মান করি এবং অনুসরণ করি। কিন্তু মনে করি এটা বোঝার সময় এসেছে যে ফিফার বিধি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে ইসরায়েলকে শাস্তি দেয়া উচিত।’
ফিলিস্তিন ফুটবলের প্রধান জানান, পশ্চিম তীরের ক্লাবগুলোর কারণে ইসরায়েলকে স্থগিত না করার বিষয়ে ফিফা মার্চে রায় দেয়ার পর, পিএফএ বিষয়টি কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসে নিয়ে যাবে।
ভ্যাঙ্কুভার কনভেনশন সেন্টারের মঞ্চ থেকে তারা দুজন নেমে যাওয়ার পর, ইনফান্তিনো প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বক্তব্য রেখেছেন, ‘সভাপতি রাজুব, সহ-সভাপতি সুলেমান, আসুন আমরা একসাথে কাজ করি। শিশুদের মনে আশা জাগানোর জন্য আসুন আমরা একসাথে কাজ করি। আসুন আমরা সেই লক্ষ্যে একসাথে এগিয়ে যাই।’
ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইয়ারিভ টেপার রাজুবের মন্তব্যের নির্দিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। বলেছেন, ‘আইএফএ ফিলিস্তিনি পক্ষগুলোর সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক। আমরা ফিফা কংগ্রেসে আছি। আমাদের লক্ষ্য হল ফুটবলের প্রসার ঘটানো এবং সকল অঞ্চলের জন্য একটি উন্নততর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা, এবং এটাই আমাদের উদ্দেশ্য।’




