‘আসমানের তারা যে এত সুন্দর, আগে বুঝিনি’
‘চাঁপাইনবাবগঞ্জের রাজমিস্ত্রি আলমগীর হোসেন বলেন, ‘যেদিন ছাড়া পাইলাম সেই রাতে আসমানের দিকে তাকাইয়া দেখি, তারায় ঝলমল করতেছে। আসমানের তারা যে এত সুন্দর, আগে কোনো দিন বুঝিনি।’ তিনি যখন কারাগারে যান, তখন তাঁর বয়স ছিল ১৯ বছর। মোট ৯ বছর তিনি কারাগারে ছিলেন। তাঁদের গ্রামে ২০১৪ সালে এক নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি যে মিস্ত্রিদের সঙ্গে তখন জোগালির কাজ করতেন, তাঁদের নামে মামলা হয়েছিল। তাঁকেও প্রথমে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়।
আলমগীর বলেন, থানায় অনেক মারধর করা হয়েছিল। এমনি হাত-পা বেঁধে নাকে পানি ঢালা হয়েছিল। তাঁকে দিয়ে লিখিত স্বীকারোক্তিতে সই করিয়ে নেওয়া হয়। জজকোর্ট মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল ২০১৭ সালে। তারপর থেকে ছয় বছর ছিলেন কনডেমড সেলে। হাইকোর্ট থেকে বেকসুর খালাস পেয়েছেন ২০২৩ সালে। মোট ৯ বছর ছিলেন বন্দী। বহু টাকা খরচ হয়েছে। ঋণ আছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা। এখন যা আয় করেন, তার একটা অংশ যায় সেই ঋণ শোধ করতে।
প্রদর্শনীতে আরও রয়েছে মৃত্যুদণ্ড থেকে ফিরে আসা আনোয়ার হোসেন, ইসমাইল হোসেন, আবদুর রহিম, সানাউল্লাহ, আউয়াল হোসাইন, মোহাম্মদ নাসির, আবদুল হাই, গোলাম আজম ও মোহাম্মদ হারুনের ছবি।
মৃত্যুদণ্ড থেকে ফিরে এলেও এই মানুষেরা এখনো তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। অনেকে এখনো মানসিকভাবে ভয়–আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। অনেকে রাতে ঘুমাতে গেলে কেউ কেউ মনে করেন, এখনো সেই সেলে আছেন। স্বপ্নে ফিরে আসে অন্ধকার ঘর, মৃত্যুভয়। শেখ জাহিদের মতো কেউ কেউ কোনো কাজ পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিন সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকায় জীবনটা যেন তাঁদের থমকে গেছে।



