সময়ের আবর্তে মানুষ গ্রাম থেকে শহরমুখী হয়। কৃষি থেকে শিল্পের দিকে ঝুঁকে পড়ে উন্নয়নের গতিধারা। সব সমাজের মতো পাহাড়েও আসছে পরিবর্তন। পাহাড়ের বনের স্থানে এখন ফলবাগানের বিস্তার ঘটছে। তিন জেলায় প্রায় ৪০ হাজার ছোট-বড় উদ্যোক্তা ফলের সঙ্গে যুক্ত। তাঁরা পাহাড়ি এলাকায় আম, কলা, কাঁঠাল, পেঁপে, আনারস, কমলাসহ ৪৪ জাতের ফল উৎপাদন করছেন। দেশের মোট ফলের চাহিদার ১৫ শতাংশ মেটাচ্ছে পাহাড়। পাহাড়ে নগরায়ণও হচ্ছে যথেষ্ট।
কিন্তু এ উন্নয়ন যখন বন, ঝিরি, পাহাড়ের বিনাশ করে হয়, তখন তা কতটুকু টেকসই হতে পারে? প্রকৃতি বিনাশের অভিঘাত পাহাড়ে কম নয়। ২০১৭ সালের জুন মাসে মাত্র তিন দিনের বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে প্রাণ যায় ১২০ জনের। নানা উন্নয়ন উদ্যোগ, জোর করে জনসংখ্যাতাত্ত্বিক পরিবর্তনের ভোগান্তি বেশি পোহাতে হয় পাহাড়ের মানুষদেরই, ক্ষতিকর উন্নয়ন উদ্যোগে যাঁদের অবদান অনেকটাই কম।
বর্ণিল দিন, জুমের জীবনে ফিরে যাওয়ার আকুতি ফুটে উঠেছে পাহাড়ের কবি রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যার কবিতায়। তিনি লিখছেন, ‘পুদি পজ্জন বার মাজ, জাদি মেলাত রেইঙ নাজ, জুম্মো বাঝি খেংখরং, আর ন-শুনিবং ই-দেজত’ (পুঁথি কিসসা বারো মাস, চৈত্র মেলায় উল্লাস নাচ, জুমিয়া বাঁশি বেঙবাজনা, আর শুনতে পাব না এ দেশে)। কবিতার শিরোনাম ‘আর এদ নয় সি-দিন’, অর্থাৎ আর আসবে না সেদিন। পাহাড়ের প্রকৃতি সেই রূপে আর ফিরবে না, এটাও এক বাস্তবতা।



