ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের মহিমা আর উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ইউরোপের দেশ পর্তুগালে আগামী ২৭ মে (বুধবার) পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে। দেশটির কেন্দ্রীয় চাঁদ দেখা কমিটি ও স্থানীয় ইসলামিক কমিউনিটিগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
হিজরি জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২৭ মে বুধবার পর্তুগালের মুসলিম সম্প্রদায় তাদের অন্যতম বৃহৎ এই ধর্মীয় উৎসব পালন করবেন। ঈদের তারিখ নির্ধারিত হওয়ার পর থেকেই পর্তুগালে স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি ও অন্যান্য দেশের মুসলিমদের মাঝে ঈদের প্রস্তুতি ও আনন্দের আমেজ শুরু হয়েছে।
রাজধানী লিসবনে এবারও ঈদের প্রধান ও সবথেকে বড় জামাত অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহাসিক মারতিম মনিজ স্কয়ারে। খোলা আকাশের নিচে এই জামাতে পর্তুগাল, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত ও বিভিন্ন আফ্রিকান দেশের হাজার হাজার মুসলিম একসাথে নামাজ আদায় করবেন। এছাড়া লিসবন সেন্ট্রাল মসজিদ, লার্জো দো ইন্তেন্দেন্ত এবং পার্কি দো নাসিওইসেও ঈদের একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
লিসবনের বাইরে প্রবাসীবহুল শহর পর্তো, অলহাও, কোইম্ব্রা, ওদিলেরা এবং আলগার্ভ অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানীয় মসজিদ ও কাউন্সিল কর্তৃক নির্ধারিত খোলা মাঠে ঈদের জামাতের বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো পর্তুগালেও যত্রতত্র পশু জবাই করার ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই দেশটির কঠোর স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট অনুমোদিত স্লটার হাউজের (কসাইখানা) মাধ্যমে কোরবানি সম্পন্ন করতে হবে। ঈদের দিন বুধবার হওয়ায় কর্মব্যস্ততার বিষয়টি মাথায় রেখে অনেকেই আগেভাগেই স্থানীয় হালাল মাংসের দোকান ও খামারিদের মাধ্যমে কোরবানির পশু বুকিং দিয়ে রেখেছেন।
ইউরোপের কর্মব্যস্ত জীবনের মধ্যেও ঈদকে ঘিরে প্রবাসীদের মাঝে এক খণ্ড বাংলাদেশ জেগে ওঠে। লিসবনে বসবাসরত কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি জানান, ঈদের দিনটি বুধবার অর্থাৎ কার্যদিবস হওয়া সত্ত্বেও অনেকেই আগে থেকে কর্মস্থল থেকে ছুটি ম্যানেজ করে রেখেছেন। পর্তুগালে ঈদে দেশের মতো অতটা আমেজ না থাকলেও, প্রবাসের মাটিতে সব বাংলাদেশিরা মিলে একসাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
পর্তুগালে বসবাস করা প্রবাসী বাংলাদেশী সমাজ কর্মী ও পর্তুগালের স্থায়ী রাজনৈতিক নেতা রাজীব আল মামুন জানিয়েছেন, ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এই পবিত্র ঈদুল আজহা পর্তুগালে বসবাসরত সকল মুসলিমদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।





