আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দিলে সাংস্কৃতিক পর্বের এক পর্যায়ে তার বাবা, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–এর অবিকল সাজে দু’জন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত হন। তাদের উপস্থিতিকে ঘিরে সমাবেশস্থলে কৌতূহল ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তি ও পরে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, জিয়াউর রহমানের আদলে সাজা এক শিশু কালো কোট, টাই ও সিগনেচারধর্মী গোঁফে নিজেকে উপস্থাপন করে। ওই শিশুকে ‘খাল কাটা’ কর্মসূচির মতো একটি প্রতীকী ভঙ্গিতে অংশ নিতে দেখা যায়। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার আদলে সাজা এক নারী অংশগ্রহণকারীকে তার পরিচিত পোশাক ও ভঙ্গিমায় শিশুদের মাঝে বই বিতরণ করতে দেখা যায়। একই পর্বে আরেক শিশু তারেক রহমানের ভূমিকায় অভিনয় করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সমাবেশস্থলে ওই অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করে তারেক রহমান হাসিমুখে প্রতিক্রিয়া জানান এবং কিছুক্ষণ তা উপভোগ করেন।
পরে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন: দেশের মাটিতে বসে বহুদিন পর একটা সুন্দর স্টেজ পারফরমেন্স দেখছিলাম। আমি অনেকক্ষণ ধরে বসে চিন্তা করছিলাম- এরপর কোন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে আনসার-ভিডিবি’র যে সাংস্কৃতিক দল তাদের যেন সুযোগ দেওয়া হয়, সেটা বলে দেব।
ভিডিওটি প্রকাশের পর তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিএনপির নেতা–কর্মীদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়।
দলটির সমর্থকদের একাংশ বিষয়টিকে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার প্রতি আবেগ, ভালোবাসা ও রাজনৈতিক আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, রাজনৈতিক সমাবেশে নেতাদের প্রতীকী উপস্থাপনার চর্চা দীর্ঘদিনের।
অন্যদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ধরনের দৃশ্য নতুন নয় বলেও অনেকে মন্তব্য করেছেন। অতীতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী (২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে ভারতে অবস্থানরত) শেখ হাসিনার সময়েও একই কর্মসূচিতে তার বাবা দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান এবং ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির বাসভবনে নিহত ভাই শেখ রাসেল–এর আদলে চরিত্র উপস্থাপনের ঘটনা দেখা গেছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নেতাদের প্রতি আবেগ ও প্রতীকী উপস্থাপনার সংস্কৃতি দীর্ঘদিনের বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন। তাদের মতে, এসব ঘটনা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় জনআলোচনায় বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জাতীয় সমাবেশ মূলত বাহিনীর শৃঙ্খলা, প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা প্রদর্শন এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তাদের ভূমিকা তুলে ধরার একটি নিয়মিত রাষ্ট্রীয় আয়োজন। এই সমাবেশে সরকারের প্রতিনিধি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন। মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ও বাহিনীর সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনার সুযোগও তৈরি হয় এই আয়োজনের মাধ্যমে।
এ ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ। সেখানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের একাংশ বলছেন, এ ধরনের প্রতীকী উপস্থাপনা সাধারণত দলীয় আবেগ ও ব্যক্তিনির্ভর রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের কারণে এমন মুহূর্তগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং জনআলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।





