নতুন পে স্কেলের জন্য অপেক্ষা বাড়ছে যাদের

নতুন পে স্কেলের জন্য অপেক্ষা বাড়ছে যাদের

প্রায় ১১ বছর পর বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) বাস্তবায়নের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার আলোকে আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে বাজেটে ৪৪ হাজার কোটি টাকা সংরক্ষণ করা হয়েছে।

নতুন পে স্কেলের জন্য অপেক্ষা বাড়ছে যাদের

যদিও নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তবে বাস্তবায়নের ধাপ, গ্রেডভিত্তিক বেতন এবং প্রথম পর্যায়ে কত শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর হবে এসব বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রথম ধাপে সংশোধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ এবং পরবর্তী ধাপে বাকি ৫০ শতাংশ কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরে বিভিন্ন ভাতা সমন্বয় করা হতে পারে। ফলে ১ জুলাই থেকে পে-স্কেল কার্যকর হলেও সব সুবিধা একসঙ্গে পাওয়া যাবে না। বর্ধিত বেতনের অর্থ হাতে পেতে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিভিন্ন গ্রেডে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুপারিশও রয়েছে।

সম্প্রতি সচিব কমিটির বৈঠকে জনপ্রশাসন-সংক্রান্ত সুপারিশ নীতিগতভাবে অনুমোদন পেলেও বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনী-সংক্রান্ত সুপারিশ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে আরও একটি বৈঠক হতে পারে।

সরকার বর্তমানে তিনটি বিকল্প বিবেচনা করছে। প্রথম প্রস্তাবে মূল বেতন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি, দ্বিতীয় প্রস্তাবে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডে ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি, আর তৃতীয় প্রস্তাবে নিম্ন গ্রেডের কর্মীদের মূল বেতন শতভাগ বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও এই সুবিধার আওতায় আনার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তাদের ক্ষেত্রে পেনশন পুনর্নির্ধারণ বা বেতন সমন্বয়ের পদ্ধতি সম্পর্কে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান সরকারি বেতন কাঠামো অনুসরণ করলেও কিছু প্রতিষ্ঠান নিজস্ব সার্ভিস রুল অনুযায়ী পরিচালিত হয়। ফলে তাদের ক্ষেত্রে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করবে সরকারের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর।

এছাড়া, বর্তমানে অবসরোত্তর ছুটিতে (এলপিআর) থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নবম পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সব মিলিয়ে নবম পে স্কেলের মূল সুবিধাভোগী হচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পেনশনভোগী, এলপিআরে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের এখনও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। গেজেট, বাস্তবায়ন নির্দেশনা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত ব্যাখ্যাই নির্ধারণ করবে—কারা এখনই নতুন বেতনের সুবিধা পাবেন, আর কারা অপেক্ষায় থাকবেন।

Scroll to Top