
অটোয়া, ২২ মে – কানাডার বিতর্কিত ল ফুল অ্যাকসেস বা বৈধ প্রবেশাধিকার বিল নিয়ে দেশটিতে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রক্ষণাত্মক অবস্থানে যেতে বাধ্য হয়েছে দেশটির ফেডারেল সরকার। তবে নতুন এই আইন পাস না হলে জাতীয় নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছে কানাডিয়ান সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস বা সিএসআইএস।
সিবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রস্তাবিত বিল ২২ অনুযায়ী, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্তের প্রয়োজনে প্রযুক্তি ও যোগাযোগ কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে দ্রুত তথ্য পাওয়ার আইনি সুযোগ পাবে।
সিএসআইএসের নীতি ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব বিভাগের উপপরিচালক নিকোল গিলস জানিয়েছেন, ফাইভ আইস জোটের দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র কানাডাতেই এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ল ফুল অ্যাকসেস ব্যবস্থা নেই। তিনি বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিগত পরিবেশে হুমকির পরিমাণ ও বৈচিত্র্য মোকাবিলায় এই আইনের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
পাবলিক সেফটি কানাডা এবং রয়েল কেনেডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের কর্মকর্তারাও এই বিষয়ে সরকারের অবস্থান গণমাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে বিলটির দ্বিতীয় অংশ নিয়ে সাধারণ মানুষ ও প্রযুক্তিবিদদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সেখানে টেলিকম, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকে এমন প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে, যাতে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে গোয়েন্দারা সহজে তথ্য পেতে পারেন। সমালোচকদের মতে, এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে ইন্টারনেটের এনক্রিপশন ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
মেটা, অ্যাপল এবং সিগন্যালের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সতর্ক করেছে যে এর ফলে হ্যাকার ও বিদেশি প্রতিপক্ষরা সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতার সুযোগ নিতে পারে।
ইউনিভার্সিটি অফ অটোয়ার ইন্টারনেট আইনবিষয়ক গবেষক মাইকেল জিসট জানান, যদি এনক্রিপশন দুর্বল হয়ে পড়ে তবে খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করা পক্ষগুলোর প্রবেশ ঠেকানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। নাগরিক অধিকার সংগঠন ও গোপনীয়তা রক্ষা কর্মীদের প্রবল বিরোধিতার মুখে বিলটি নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে।
এস এম/ ২২ মে ২০২৬






