জাতিসংঘের ডব্লিউএসআইএস ফোরামে নির্বাচিত এ এইচ এম বজলুর রহমান | চ্যানেল আই অনলাইন

জাতিসংঘের ডব্লিউএসআইএস ফোরামে নির্বাচিত এ এইচ এম বজলুর রহমান | চ্যানেল আই অনলাইন

বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম বজলুর রহমান জাতিসংঘের তথ্যসমাজবিষয়ক বিশ্ব শীর্ষ সম্মেলন (ডব্লিউএসআইএস) ফোরাম ২০২৬-এ উচ্চপর্যায়ের অংশগ্রহণকারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী ৬ থেকে ১০ জুলাই সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত হবে এ আন্তর্জাতিক ফোরাম।

ডব্লিউএসআইএস ফোরাম ২০২৬ যৌথভাবে আয়োজন করবে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) ও সুইস কনফেডারেশন। জেনেভায় আইটিইউ সদর দপ্তর এবং প্যালেক্সপোতে অনুষ্ঠিতব্য এ আয়োজনে সরাসরি অংশগ্রহণের পাশাপাশি দূরবর্তী অংশগ্রহণের সুযোগও আরও জোরদার করা হবে। ফোরামটির সহ-আয়োজক হিসেবে থাকবে আইটিইউ, ইউনেস্কো, ইউএনডিপি ও ইউএনসিট্যাড। এছাড়া জাতিসংঘের ৫০টির বেশি সংস্থা এতে অংশীদার হিসেবে যুক্ত থাকবে।

বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ এ আয়োজনটি হবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অনুষ্ঠিত ডব্লিউএসআইএস+২০ পর্যালোচনার পর প্রথম বার্ষিক ডব্লিউএসআইএস ফোরাম। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবে ডব্লিউএসআইএস ফোরামকে তথ্যসমাজবিষয়ক সংলাপের বৈশ্বিক বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবছর নিয়মিতভাবে এ ফোরাম আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

ডব্লিউএসআইএস ফোরামকে ডব্লিউএসআইএস অ্যাকশন লাইন বাস্তবায়ন এবং বৈশ্বিক ডিজিটাল সহযোগিতা জোরদারের একটি কেন্দ্রীয় বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সরকার, বেসরকারি খাত, নাগরিক সমাজ, কারিগরি সম্প্রদায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তরুণ সমাজ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এ ফোরামে অংশ নিয়ে সংলাপ, সহযোগিতা ও কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে।

২০০০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিএনএনআরসি বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল উন্নয়ন এগিয়ে নিতে ধারাবাহিক ও কৌশলগত ভূমিকা পালন করে আসছে। জনগণকেন্দ্রিক ও অধিকারভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি গণমাধ্যম উন্নয়ন, ডিজিটাল রূপান্তর, ডিজিটাল গণতন্ত্র এবং তথ্যের অখণ্ডতা নিয়ে কাজ করছে। একই সঙ্গে ডব্লিউএসআইএস প্রক্রিয়ার বৈশ্বিক নীতি ও অঙ্গীকারকে দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সংযুক্ত করে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণেও ভূমিকা রাখছে।

ফোরামটিতে এ এইচ এম বজলুর রহমানের অংশগ্রহণ বাংলাদেশে গণমাধ্যম উন্নয়ন, ডিজিটাল রূপান্তর, ডিজিটাল গণতন্ত্র এবং তথ্যের অখণ্ডতা বিষয়ে অভিজ্ঞতা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে ডব্লিউএসআইএস অ্যাকশন লাইন সি১ থেকে সি১১ বাস্তবায়ন, জাতিসংঘের বৈশ্বিক ডিজিটাল চুক্তির ফলোআপ, ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরাম প্রক্রিয়া, ভবিষ্যতের জন্য চুক্তি, দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ বিষয়ে বাংলাদেশ ও গ্লোবাল সাউথের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

এছাড়া ডব্লিউএসআইএস ফোরাম ২০২৬ সদস্যরাষ্ট্র ও অংশীজনদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র তৈরি করবে, যেখানে ডব্লিউএসআইএস+২০ পর্যালোচনা থেকে উদ্ভূত অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্যায়ের অভিজ্ঞতা, অগ্রাধিকার ও করণীয় বিষয়ে মতবিনিময় করা যাবে। ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি, উদীয়মান প্রযুক্তি, তথ্যের অখণ্ডতা, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, সাইবার নিরাপত্তা, বহুভাষিক ডিজিটাল পরিবেশ এবং টেকসই ডিজিটাল উন্নয়নেও নবায়িত বৈশ্বিক সহযোগিতার কৌশলগত ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করবে এ ফোরাম।

বিএনএনআরসি জানিয়েছে, ডব্লিউএসআইএস প্রক্রিয়া যখন ডব্লিউএসআইএস ২০৩৫-এর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন এ অংশগ্রহণকে বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানুষকেন্দ্রিক ও উন্নয়নমুখী ডিজিটাল রূপান্তর জোরদার এবং বৈশ্বিক ডিজিটাল সহযোগিতায় অবদান রাখার ধারাবাহিক অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Scroll to Top