দেশের ফুটবলে বিপ্লব ঘটিয়েছেন হামজা দেওয়ান চৌধুরী। ইংল্যান্ড প্রবাসী মিডফিল্ডারের আগমনে দেশের ফুটবলে তৈরি হয় নতুন উন্মাদনা। বছরজুড়ে জাতীয় দলের জার্সিতে আলো ছড়ানোর স্বীকৃতি পেলেন হামজা। বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসপিএ) স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ডে তিন বিভাগে সেরা হয়েছেন তিনি।
শুক্রবার জমকালো আয়োজনে গত বছরের সেরা ক্রীড়াবিদদের পুরস্কৃত করে বিএসপিএ। নারী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা ও হকি খেলোয়াড় আমিরুল ইসলামকে পেছনে ফেলে হামজা জিতে নিয়েছেন ২০২৫ সালের বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদের স্বীকৃতি। ফুটবলে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার জয়ের পাশাপাশি ক্রীড়ামোদীদের ভোটে তিনি পেয়েছেন পপুলার চয়েজ অ্যাওয়ার্ড।
২০২৫ সালের মার্চে ভারতের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচ দিয়ে লাল-সবুজের জার্সিতে অভিষেক হয় হামজার। জুনে ভুটানের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের হয়ে গোলের খাতা খোলেন তিনি।
অবশ্য অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না হামজা পুরস্কার পাওয়ার পর ভিডিও বার্তায় হামজা ধন্যবাদ জানিয়েছেন সবাইকে। বলেছেন, ‘এই পুরস্কার পেয়ে আমি খুবই গর্বিত। কুল-বিএসপিএ অ্যাওয়ার্ড দেশের ঐতিহ্যবাহী পুরস্কার। আমি আমার পরিবার, কোচ, সতীর্থ ও বন্ধুদের এবং ফ্যানদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি, সারা বছর ধরে আমাকে ও জাতীয় দলকে সমর্থন করার জন্য।’
বর্ষসেরা কোচ হয়েছেন পিটার জেমস বাটলার। এই ইংলিশ কোচের হাত ধরে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ উইমেন’স এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। বর্ষসেরা নারী ফুটবলারের পুরস্কার উঠেছে ঋতুপর্ণা চাকমার হাতে। এছাড়া বর্ষসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার রিশাদ হোসেন।
১৯৬৪ সালে দেশে প্রথম ক্রীড়া পুরস্কারের প্রবর্তন করা বিএসপিএ এবার ১৬টি বিভাগে সর্বমোট ১৫ জন বর্তমান ও সাবেক ক্রীড়াবিদ, সংগঠক এবং সংস্থাকে পুরস্কৃত করেছে।
একনজরে কে কোন পুরস্কার পেলেন:
বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ: হামজা চৌধুরী (চ্যাম্পিয়ন), ঋতুপর্ণা চাকমা (রানার-আপ), আমিরুল ইসলাম (রানার-আপ)
পপুলার চয়েজ অ্যাওয়ার্ড: হামজা চৌধুরী।
বর্ষসেরা ক্রিকেটার: রিশাদ হোসেন।
বর্ষসেরা ফুটবলার: হামজা চৌধুরী (পুরুষ) ও ঋতুপর্ণা চাকমা (নারী)
বর্ষসেরা হকি খেলোয়াড়: আমিরুল ইসলাম
বর্ষসেরা আর্চার: আব্দুর রহমান আলিফ
বর্ষসেরা টেবিল টেনিস খেলোয়াড়: খই খই সাই মারমা
বর্ষসেরা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়: আল আমিন জুমার
উদীয়মান ক্রীড়াবিদ: রিপন মন্ডল (ক্রিকেট)
বর্ষসেরা কোচ: পিটার বাটলার (নারী ফুটবল)
বর্ষসেরা আম্পায়ার: সেলিম লাকী (হকি)
বর্ষসেরা সংগঠক: কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল (আর্চারি)
তৃণমূলের ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব: আলমগীর কবীর (ক্রিকেট কোচ)
বিশেষ সম্মাননা: শাহনাজ পারভীন মালেকা (কাবাডি কোচ)
সেরা পৃষ্ঠপোষক: প্রাইম ব্যাংক পিএলসি
সক্রিয় ফেডারেশন: বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন





