সন্ধ্যায় এ বাড়িতে দেখা হলো প্রসাদের স্তূপীকৃত খাদ্যদ্রব্য, যেখানে ছিল ঢ্যাপের মোয়াও। নিচু এলাকা বলে বর্ষাকালে এখনো এ অঞ্চলে প্রচুর শাপলাফুল ফোটে, যেসবের বীজের খই ফুটিয়ে এ মোয়া তৈরি করা হয়। আমাদের পরিচিত তারা রানী কাকি ইতিপূর্বে এ মোয়া খাইয়েছিলেন। পৌষসংক্রান্তির দিন সারা গ্রাম ঘুরতে গিয়ে এ রকম আরও নারীর সাক্ষাৎ মেলে, যাঁরা আমাদের নানা বিষয়ে ধারণা দিতে সচেষ্ট ছিলেন।
অগ্রহায়ণের পর মানুষের গোলা ভরে যায় ধানে। এ সময় প্রাচুর্যের কারণে মানুষের মন-প্রাণ উৎফুল্ল থাকে। চলে পিঠা-পুলির আয়োজন। এ আনন্দ উদ্যাপনই অতীতে পৌষসংক্রান্তির মেলা জমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল। পারিল গ্রামের মেলা সম্পর্কেও একই কথা প্রযোজ্য। কী নেই এ মেলায়? আছে কাঠ, বেত, বাঁশের আসবাব ও সামগ্রী, শিশুদের নানা খেলনা, মোয়া-মুড়কি, বাতাসা, মিষ্টি, আলতা, ফিতে। গৃহস্থালির নানা জিনিস তো আছেই। এখানে খাবার হিসেবে তেলে ভাজা যে দ্রব্য তৈরি করা হয়, তাতে খাঁটি তেল ব্যবহারকে তারা পবিত্র দায়িত্ব জ্ঞান করে।
এখন সারা গ্রামেই শর্ষেফুলের ম ম গন্ধ আর পাখির কূজন। সন্ধ্যার পর যখন আবার সিঙ্গাইর, হেমায়েতপুর হয়ে প্রত্যাবর্তন উদ্দেশ্যে খেতের আল ধরে আমরা ফিরছিলাম তখন ব্যাঙ, ঝিঁঝি ও অন্যান্য পতঙ্গের ডাকে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ি। মনে মনে আওড়ে নিই—আবার জমবে মেলা বটতলা হাটখোলা, অঘ্রাণে নবান্নে উৎসবে…।



