আকরাম খানের ‘নকশী কাঁথার জমিন’ সিনেমার জন্য এই পুরস্কার অর্জন করেন পলাশ

ঢাকার ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে শনিবার সন্ধ্যায় বসেছিল আলোকচিত্রী, চলচ্চিত্রকর্মী, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের মিলনমেলা। উপলক্ষ প্রয়াত আলোকচিত্রী ও সম্প্রচার সাংবাদিক মিশুক মুনীরকে স্মরণ এবং তার স্মৃতি ধরে রাখার আয়োজন। সেখানেই ‘মিশুক মুনীর মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ তুলে দেওয়া হলো চিত্রগ্রাহক বরকত হোসেন পলাশের হাতে।
‘নকশী কাঁথার জমিন’ চলচ্চিত্রের চিত্রগ্রহণের জন্য এবারের পুরস্কার পেয়েছেন পলাশ। অনুষ্ঠানে তাকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও এক লাখ টাকা পুরস্কার তুলে দেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবুল খায়ের।
লিলি-মুনীর মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ও মিশুক মুনীরের পরিবারের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক, নির্মাতা, চিত্রগ্রাহকসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকে। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ত্রপা মজুমদার। এরপর মিশুক মুনীরের জীবন, আলোকচিত্রচর্চা এবং নির্মাতা তারেক মাসুদের সঙ্গে তার কাজের নানা দিক নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মিশুক মুনীরকে নিয়ে নিজেদের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন সাংবাদিক কুর্রাতুল-আইন-তাহ্মিনা, নির্মাতা আকা রেজা গালিবসহ অন্যরা। তাদের কথায় উঠে আসে মিশুক মুনীরের কাজের প্রতি নিষ্ঠা, চলচ্চিত্র ও সম্প্রচার সাংবাদিকতায় তার অবদান এবং সহকর্মীদের সঙ্গে তার আন্তরিক সম্পর্কের নানা স্মৃতি।
জুরি সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পারায় তাদের পক্ষ থেকে পুরস্কারপ্রাপ্ত হিসেবে বরকত হোসেন পলাশের নাম ঘোষণা করেন আসিফ মুনীর।
পুরস্কার হাতে নিয়ে মিশুক মুনীরের সঙ্গে নিজের একমাত্র দেখা হওয়ার স্মৃতিও শেয়ার করেন পলাশ। তিনি বলেন, ‘আমার সৌভাগ্য, রানওয়ে সিনেমার শুটিংয়ের সময় দূর থেকে একবার তাকে দেখেছিলাম। তখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।’
এই স্বীকৃতির জন্য আয়োজক ও জুরি সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে পলাশ বলেন, এই পুরস্কার সামনে আরো ভালো কাজ করতে উৎসাহিত করবে।
বরকত হোসেন পলাশ বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও ওয়েব কনটেন্টে দীর্ঘদিন ধরে চিত্রগ্রাহক হিসেবে কাজ করছেন। তার কাজের মধ্যে রয়েছে বনলতা এক্সপ্রেস, সাবা, প্রিয় মালতী, নকশী কাঁথার জমিন, পাপ পুণ্য ও জালালের গল্প। ওয়েব সিরিজের মধ্যে তাকদীর, কারাগার ও মহানগর-এর মতো আলোচিত কাজেও তিনি চিত্রগ্রাহক হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
বাংলাদেশের আধুনিক সম্প্রচার সাংবাদিকতা ও চলচ্চিত্রের চিত্রগ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা মিশুক মুনীর ২০১১ সালে ‘কাগজের ফুল’ চলচ্চিত্রের লোকেশন পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। তার স্মৃতি ও কাজের উত্তরাধিকারকে এগিয়ে নিতে ২০২৩ সালে চালু হয় ‘মিশুক মুনীর মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড’।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…

