ড্রাগন নিয়ে বিপাকে মেহেরপুরের কৃষি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা

ড্রাগন নিয়ে বিপাকে মেহেরপুরের কৃষি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা

টনিক ব্যবহার করে ড্রাগন বড় করার প্রচারণায় বিপাকে পড়েছেন মেহেরপুরের ড্রাগন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। স্বাভাবিক নিয়মে চাষাবাদ করেও প্রচারণার বিরুপ প্রভাব ঠেকাতে না পারায় নিরুপায় হয়ে পড়েছেন এসব উদ্যোক্তারা। যা আর্থিক ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে কৃষি উদ্যোক্তাদের।

উদ্যোক্তাদের রক্ষায় সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রয়োজনীয় গবেষণা করে ড্রাগন চাষাবাদের সুর্নির্দিষ্ট নির্দেশনা চান বাগান মালিক ও এর সাথে সম্পৃক্ত মানুষেরা।

গাংনীর কৃষি উদ্যোক্তা ইনামুল হক ১০ বিঘা জমিতে ড্রাগন আবাদ করেছেন। এক বছরে এখাতে তিনি বিনিয়োগ করেছেন ৩৬ লাখ টাকা। প্রথম পর্যায়ের ড্রাগন ধরা শুরু হলেও কাঙ্খিত বাজার মিলছে না। এনামুলের মতই অনেক উদ্যোক্তা বিনিয়োগ করে কৃষি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। এসব উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নুতন ব্যবসার পথ খুলে দিয়েছে। একইসাথে পুষ্টিকর এই বিদেশি ফল হাতের নাগালে পাচ্ছেন ভোক্তারা।

ড্রাগন নিয়ে বিপাকে মেহেরপুরের কৃষি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা

জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগের মাধ্যমে চাষাবাদ করা হচ্ছে এসব উদ্যোক্তাদের বাগানের ড্রাগন। প্রয়োগ করা হচ্ছে দেশীয় অনুমোদিত কীটনাশক। তবে জাতভেদে ড্রাগনের আকার আকৃতির ভিন্নতা থাকলেও তা নেতিবাচক প্রচারণায় আটকে যাচ্ছে ভোক্তাদের কাছে।

উদ্যোক্তা ইনামুল হক বলেন, ‘আমাদের দেশে ড্রাগনের জাতভেদে ফলের আকার আকৃতি নির্ভর করে। কয়েকটি জাত আছে যা বিদেশ থেকে আসা। এ জাতগুলো হাইব্রিড নামে পরিচিত। এর ফল আকারে দেশীয় ছোট ফলের চেয়ে বেশ বড় হয়।’ 

ফলের রংয়ের বিষয়ে ইনামুল হক বলেন, ‘ড্রাগন ধরার পর তা টিস্যু ব্যাগ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। যাতে পাখি এসে ফলগুলো বিনষ্ট করতে না পারে। এই ঢেকে দেওয়ার কারণে ফলের এক পাশ সবুজ থাকে অন্য পাশ থাকে লাল। যা বাজারে বিক্রি করতে গেলে ক্রেতারা সন্দেহের মধ্যে পড়ছেন। ফল যদি টিস্যু ব্যাগ দিয়ে ঢেকে না দেওয়া হয় তবে পাখির হাত থেকে রক্ষা করা যায় না।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘কারা ড্রাগনে হরমোন ব্যবহার করে বড় করছেন তা চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সবাইকে সন্দেহের মধ্যে ফেলে দিলে তো এ খাতে কেউ বিনিয়োগ করবেন না।’ 


গাংনী ও মেহেরপুর শহরের কয়েকজন ফল ব্যবসায়ী জানান, বাগান থেকে ড্রাগন ফল সংগ্রহ করার সময় বিভিন্ন আকার আকৃতি দেখা যায়। যা স্বাভাবিক চাষাবাদের মাধ্যমেই হচ্ছে। কিন্ত সোস্যাল মিডিয়ায় বিরুপ প্রচারণার কারণে ক্রেতারা ড্রাগন কিনতেই চাচ্ছেন না। বড় ফল দেখলে তারা মনে করছেন হরমোন দিয়ে বড় করা হয়েছে।

বাগান মালিকদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন বলে জানালেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। 

ড্রাগনে হরমোন প্রয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার ইমরান হোসেন বলেন, ‘টনিক প্রয়োগের বিষয়ে কৃষি বিভাগের উচ্চ পর্যায়ে গবেষণা চলমান। গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ফলাফলের পরেই হরমোন প্রয়োগের বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আসবে। কৃষিখাতের সম্ভাবনাময় এ উদ্যোগ টিকিয়ে রাখতে হবে।’ তবে গবেষণা সম্পন্ন হওয়ায় আগেই নেতিবাচক প্রচারণা এ খাতকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে বলে মনে করছেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

Scroll to Top