মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর উপস্থিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের কাছে গুলির ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। কোনো প্রমাণ ছাড়াই অনেকেই ঘটনাটিকে ‘সাজানো’ বা ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ বলে দাবি করেন।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন-এর ডিনারের কাছাকাছি এলাকায় গুলির খবর পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই এক্স, ফেসবুক ও টিকটকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দাবি-পাল্টা দাবিতে ভরে যায়।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষণকারী সংস্থা টুইটবাইন্ডারের তথ্য অনুযায়ী, রোববার দুপুরের মধ্যেই এক্স-এ ৩ লাখের বেশি পোস্টে ‘সাজানো’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়।

ঘটনার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা ওয়াশিংটন হিলটন-এ নৈশভোজে অংশ নিচ্ছিলেন। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা কোল থমাস অ্যালেন নামে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে অনুষ্ঠানস্থলের দিকে যাওয়ার সময় গুলি চালায়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে আটক করে এবং ট্রাম্প ও অন্যান্যদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া তত্ত্বগুলোর মধ্যে একটি ছিল—হোয়াইট হাউসে নতুন বলরুম নির্মাণ পরিকল্পনার পক্ষে জনসমর্থন তৈরির উদ্দেশ্যে ঘটনাটি সাজানো হয়েছে। ঘটনার পর ট্রাম্পের বক্তব্য ও সামাজিক মাধ্যমে পোস্টকে কেন্দ্র করে এই জল্পনা আরও ছড়ায়। ফক্স নিউজ-এর এক লাইভ সম্প্রচার নিয়েও নতুন তত্ত্ব তৈরি হয়। প্রতিবেদক আয়েশা হাসনি-এর লাইভ রিপোর্টিং হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দাবি ওঠে যে তিনি ‘গোপন তথ্য’ জানাতে যাচ্ছিলেন।
তবে পরে তিনি সামাজিক মাধ্যমে জানান, দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল এবং তার মন্তব্য ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতার প্রেক্ষিতে ছিল।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট-এর একটি মন্তব্যও বিতর্ক উসকে দেয়। ডিনারের আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ‘গুলি চালানো হবে’ বলেছিলেন, যা পরে অনেকেই সন্দেহজনক হিসেবে তুলে ধরেন। যদিও এটি মূলত অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের রসিকতার প্রসঙ্গেই বলা হয়েছিল। সবচেয়ে বেশি ছড়ানো তত্ত্বগুলোর মধ্যে ছিল ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অপারেশনের দাবি—যেখানে বলা হয়, আন্তর্জাতিক ইস্যু থেকে মনোযোগ সরাতেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
এছাড়া কিছু অ্যাকাউন্ট ইসরায়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য সংযোগের কথাও দাবি করে যাচাইবিহীন ছবি প্রচার করে।
তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সন্দেহভাজনের ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যই প্রধান বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং এতে কোনো বিদেশি সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত নেই।





