টানা ঊর্ধ্বগতির পর হঠাৎ কমল স্বর্ণের দাম

টানা ঊর্ধ্বগতির পর হঠাৎ কমল স্বর্ণের দাম

টানা চার সপ্তাহ ধরে ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম হ্রাস পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এখনো কোনো চুক্তি না হওয়ায় তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর ফলে স্বর্ণবাজারে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

টানা ঊর্ধ্বগতির পর হঠাৎ কমল স্বর্ণের দাম

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৩৬ মিনিটে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক দুই শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬৮৩ দশমিক ২৩ ডলারে নেমে আসে। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রায় তিন শতাংশ কমেছে। একই সময়ে জুন মাসে সরবরাহযোগ্য মার্কিন স্বর্ণফিউচারস শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬৯৯ ডলারে অবস্থান করছে।

স্বাধীন বিশ্লেষক রস নরম্যান রয়টার্সকে জানান, স্বর্ণের বাজার বর্তমানে ঊর্ধ্বমুখী গতি ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। যখন বাজার আর উপরের দিকে যেতে পারে না, তখন স্বাভাবিকভাবেই নিচের দিকে চাপ তৈরি হয়।

অন্যদিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম চলতি সপ্তাহে প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৫ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ সচল করতে অগ্রগতির অভাব এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। এতে দীর্ঘ সময়ের জন্য সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে থাকার সম্ভাবনাও তৈরি হয়। সাধারণত স্বর্ণকে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হলেও উচ্চ সুদের হার সুদযুক্ত সম্পদকে বেশি আকর্ষণীয় করে তোলে, ফলে স্বর্ণের চাহিদা কমে যায়।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন দেখা গেছে। রুপার দাম শূন্য দশমিক সাত শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৪ দশমিক ৮৮ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৭৮ দশমিক ৮৪ ডলারে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক চার শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪৭৫ দশমিক ৩৫ ডলারে পৌঁছেছে।

এদিকে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা। ২১ ক্যারেটে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।

আরও পড়ুন

Scroll to Top