টস বন্ডের চার গুদাম সিলগালা, শুল্কমুক্ত মদ মজুতের অভিযোগে অভিযান – DesheBideshe

টস বন্ডের চার গুদাম সিলগালা, শুল্কমুক্ত মদ মজুতের অভিযোগে অভিযান – DesheBideshe


টস বন্ডের চার গুদাম সিলগালা, শুল্কমুক্ত মদ মজুতের অভিযোগে অভিযান – DesheBideshe
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের প্রতিষ্ঠান টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডে অভিযান চালিয়ে চারটি গুদাম সিলগালা করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১ (এসআরবি-১)

ঢাকা, ০২ অক্টোবর- কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের প্রতিষ্ঠান টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডে অভিযান চালিয়ে চারটি গুদাম সিলগালা করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১ (এসআরবি-১)। বন্ড সুবিধায় আমদানি করা শুল্কমুক্ত মদ অনুমোদনহীন গুদামে মজুত এবং প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত গুদামের সঙ্গে বাস্তব ব্যবস্থাপনায় অসঙ্গতি পাওয়ার অভিযোগে এ অভিযান চালানো হয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজধানীর দক্ষিণ গুলশানে টস বন্ডের বন্ডেড ওয়্যারহাউসে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। রাত সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হওয়া অভিযান চলে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

অভিযানে প্রাথমিকভাবে ‘গুরুতর অসঙ্গতি’ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে এনবিআর। প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত বা ঘোষিত ওয়্যারহাউসের সংখ্যা দুটি।

তবে সরেজমিনে দেখা যায়, মোট চারটি ওয়্যারহাউসে পণ্য মজুত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ অনুমোদিত গুদামের বাইরে আরও দুটি গুদাম ব্যবহার করা হচ্ছিল।

বন্ড সুবিধায় আমদানি করা শুল্কমুক্ত পণ্য অনুমোদিত গুদামের বাইরে সরানো বা স্থানান্তর করা হয়েছে কি না, তা এখন যাচাই করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। পণ্য সরিয়ে ফেলা বা স্থানান্তরের সুযোগ বন্ধ করা এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে চারটি গুদামই সিলগালা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বন্ডেড ওয়্যারহাউস থেকে শুল্কমুক্ত মদ কেনার সুযোগ আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট শ্রেণির ব্যক্তিদের মধ্যে সীমিত। টস বন্ডের বিরুদ্ধে শুল্কমুক্ত পণ্য খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ নিয়ে কয়েক মাস ধরে অনুসন্ধান চলছিল। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

টস বন্ডের মালিকানা ও পরিচালনার সঙ্গে শেখ নুর ইসলাম এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তদন্তে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এনবিআরের সিআইসি ও আয়কর গোয়েন্দা ইউনিট কানাডা থেকেও নুর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের আর্থিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে।

কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কানাডা থেকে সংগৃহীত নথিতে ২০১২ সালের ২৬ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত নুর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের আর্থিক কর্মকাণ্ড-সংক্রান্ত ১৬৩টি প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব নথির মধ্যে ১৭টি সন্দেহজনক লেনদেন, দুটি সন্দেহজনক লেনদেনের চেষ্টা, বড় অঙ্কের নগদ লেনদেনের ১১৮টি প্রতিবেদন, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের ২৬টি প্রতিবেদন এবং আন্তদেশীয় অর্থ লেনদেনের দুটি নথির কথা বলা হয়েছে। এক বছরে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা রেমিট্যান্স আনার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেছেন।

তবে টস বন্ডের এই অভিযানকে সম্প্রতি সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। তাঁদের দাবি, টস বন্ড ও নুর ইসলামকে ঘিরে রাজস্ব-সংক্রান্ত অনুসন্ধান আগে থেকেই চলছিল এবং বর্তমান অভিযান সেই অনুসন্ধানেরই ধারাবাহিকতা।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে দক্ষিণ মানিকদীর নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ‘ব্রাউনফিশ’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ঘটনার পর তাঁর ব্যাংক হিসাব তলবের খবরও আসে। তবে স্টুডিওতে হামলা এবং টস বন্ডের গুদাম সিলগালা করার মধ্যে সরাসরি কোনো যোগসূত্রের কথা তদন্তকারী সংস্থাগুলো জানায়নি।

এদিকে, সিলগালা করা চার গুদামে থাকা পণ্যের পরিমাণ, আমদানি ও বন্ড সুবিধার নথি, গুদাম ব্যবহারের অনুমোদন এবং শুল্কমুক্ত পণ্য নির্ধারিত নিয়মে সংরক্ষণ ও বিতরণ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত ও বিস্তারিত যাচাই শেষে টস বন্ডের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে এনবিআর।

এস এম/ ০২ অক্টোবর ২০২৬

 

Scroll to Top