
মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে তিনি ছিলেন শব্দসৈনিক, মঞ্চে কখনো নূরলদীন, কখনো দেওয়ান গাজী, আবার কখনো গ্যালিলিও। টেলিভিশনে তার অভিনয় মুগ্ধ করেছে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের আধুনিক নাট্য আন্দোলন; সবখানেই রেখে গেছেন নিজস্ব ছাপ। তিনি আলী যাকের। ৬ নভেম্বর তার ৮২তম জন্মবার্ষিকী।
একজন মানুষ কতভাবে বেঁচে থাকতে পারেন? কখনো ইতিহাসের পাতায়, কখনো মঞ্চের আলোয়, কখনো টেলিভিশনের পর্দায়, আবার কখনো মানুষের স্মৃতিতে। আলী যাকের যেন তারই এক অনন্য উদাহরণ।
কণ্ঠে ছিল দৃঢ়তা, অভিনয়ে গভীরতা, ব্যক্তিত্বে এক অসাধারণ মাধুর্য। মঞ্চে দাঁড়ালে তার উপস্থিতিই বদলে দিত নাটকের আবহ। চরিত্রকে তিনি শুধু অভিনয় করতেন না, যেন নিজের মধ্যে ধারণ করতেন। দর্শকও ভুলে যেতেন, মঞ্চে যাকে দেখছেন তিনি একজন অভিনেতা।
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এমন শিল্পী খুব বেশি আসেননি, যাদের জীবন একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ, নাট্য আন্দোলন, টেলিভিশন, সাহিত্য, বিজ্ঞাপনশিল্প ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে এত গভীরভাবে যুক্ত।
১৯৪৪ সালের ৬ নভেম্বর জন্ম নেওয়া আলী যাকের তাই শুধু একজন অভিনেতার নাম নয়; তিনি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জাগরণ ও সৃজনশীলতার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি।
স্বাধীনতার যুদ্ধে শব্দ ছিল তার অস্ত্র
১৯৭১ সাল। বাঙালি জাতি তখন স্বাধীনতার জন্য লড়ছে। একদিকে রণাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধ, অন্যদিকে বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের সত্য তুলে ধরার লড়াই।
সেই দ্বিতীয় লড়াইয়ের একজন সাহসী যোদ্ধা ছিলেন আলী যাকের।
মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ভারতে গিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ নেন। পরে সাংবাদিক ও চলচ্চিত্রকার আলমগীর কবিরের আহ্বানে যুক্ত হন কলকাতার বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে অবস্থিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ইংরেজি বিভাগে।
সেখানে তার পরিচয় ছিল ‘আবু মুহাম্মদ আলী’ ছদ্মনামে। তার কাজ ছিল মুক্তিযুদ্ধের খবর ইংরেজিতে বিশ্বের কাছে তুলে ধরা।
পাকিস্তানি প্রচারযন্ত্র তখন বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছিল। সেই প্রচারের জবাব দিতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হতো দ্য নেকেড ট্রুথ (The Naked Truth)। পাকিস্তান রেডিওর হোল ট্রুথ (Whole Truth) অনুষ্ঠানের পাল্টা জবাব ছিল এটি।
আলী যাকের শুধু স্টুডিওতে বসে সংবাদ পাঠ করতেন না। তিনি বিভিন্ন যুদ্ধাঞ্চলে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, সংগ্রহ করেছেন যুদ্ধের খবর। তার প্রতিবেদনের মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানুষ জানতে পেরেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের বাস্তব চিত্র।
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে তার কাজ চলেছিল ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।
তিনি শুধু শিল্পী হিসেবে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেননি, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সংগ্রামেও সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন।
তার কাছে মুক্তিযুদ্ধ ছিল কেবল একটি ভূখণ্ডের স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই নয়; এটি ছিল বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয় রক্ষার সংগ্রাম।
‘কবর’ থেকে শুরু এক অসাধারণ যাত্রা
দেশ স্বাধীন হলো। এবার শুরু হলো নতুন দেশ গড়ার সংগ্রাম। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও তখন নতুন সম্ভাবনার উন্মেষ।
১৯৭২ সালে শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে মঞ্চে আলী যাকেরের যাত্রা শুরু। নাটকটি মঞ্চস্থ করেছিল আরণ্যক নাট্যদল।
সেই শুরুই বদলে দিল তার জীবনের গতিপথ।
এরপর তিনি যুক্ত হন নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সঙ্গে। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের আধুনিক মঞ্চনাটককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার যে আন্দোলন, আলী যাকের হয়ে ওঠেন তার অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব।
তার অভিনয় ও নির্দেশনায় মঞ্চে আসতে থাকে এমন সব নাটক, যা দর্শকদের বিনোদনের পাশাপাশি ভাবতে শিখিয়েছে সমাজ, ইতিহাস, রাষ্ট্র, মানুষ ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে।
নাটক তার কাছে শুধু অভিনয়ের জায়গা ছিল না। ছিল সমাজের সঙ্গে কথা বলার, মানুষের চিন্তার জগতে আলোড়ন তোলার এক শক্তিশালী মাধ্যম।
নূরলদীন, দেওয়ান গাজী, গ্যালিলিও: এক অভিনেতার বহু জীবন
বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের ইতিহাসে আলী যাকেরের নাম উচ্চারিত হলে যে চরিত্রগুলো অনিবার্যভাবে সামনে আসে, তার মধ্যে নূরলদীন, দেওয়ান গাজী ও গ্যালিলিও অন্যতম।
সৈয়দ শামসুল হকের ‘নূরলদীনের সারাজীবন’ নাটকে তার অভিনয় বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের এক স্মরণীয় অধ্যায়। কৃষকবিদ্রোহের নেতা নূরলদীনের চরিত্রে তিনি ফুটিয়ে তুলেছিলেন প্রতিবাদ, আত্মমর্যাদা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সংগ্রাম।
দেওয়ান গাজীর কিসসা’য় তিনি ছিলেন ভিন্ন এক মানুষ। চরিত্রের ভাষা, শরীরী অভিব্যক্তি ও সংলাপের মাধ্যমে দর্শককে নিয়ে গেছেন অন্য এক জগতে। আর ‘গ্যালিলিও’তে তার অভিনয় মনে করিয়ে দিয়েছে সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
২০১৮ সালে দীর্ঘ বিরতির পর আবার ‘গ্যালিলিও’ নাটকে মঞ্চে ফিরেছিলেন আলী যাকের। তখন তিনি অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছেন। তবু অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা তাকে ফিরিয়ে এনেছিল আলোর বৃত্তে। সেটিই ছিল তার শেষ দিকের মঞ্চাভিনয়ের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা।
মঞ্চে তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ম্যাকবেথ’, ‘অচলায়তন’, ‘কোপেনিকের ক্যাপ্টেন’সহ বহু প্রযোজনা।
আলী যাকের প্রমাণ করেছিলেন, একজন শক্তিমান অভিনেতার পরিচয় নির্দিষ্ট কোনো চরিত্রে সীমাবদ্ধ থাকে না। প্রতিটি চরিত্রে নতুন জীবন সৃষ্টি করার ক্ষমতাই তাঁকে করে তোলে অনন্য।
টেলিভিশনের পর্দায় সবার আপনজন
মঞ্চের আলী যাকের ছিলেন শক্তিমান নাট্যশিল্পী, আর টেলিভিশনের আলী যাকের হয়ে উঠেছিলেন কোটি দর্শকের পরিচিত মানুষ।
হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘বহুব্রীহি’ এবং ‘আজ রবিবার’-এ তার অভিনয় আজও দর্শকদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল।
‘আজ রবিবার’-এর ড. আসগর চরিত্রে তার অভিনয় ছিল বিশেষভাবে স্মরণীয়। চরিত্রটির অদ্ভুত আচরণ, সংলাপ বলার নিজস্ব ধরন এবং সূক্ষ্ম হাস্যরস দর্শকদের কাছে তাঁকে এনে দেয় অসাধারণ জনপ্রিয়তা।
‘বহুব্রীহি’তেও তার অভিনয় ছিল প্রাণবন্ত ও স্বতন্ত্র।
‘নক্ষত্রের রাত’, ‘একদিন হঠাৎ’সহ আরও অনেক টেলিভিশন নাটকে তিনি নিজের অভিনয়ক্ষমতার বৈচিত্র্য তুলে ধরেছেন।
অভিনেতা হিসেবে আলী যাকেরের বিশেষত্ব ছিল তার স্বাভাবিকতা। গম্ভীর চরিত্রে তিনি যেমন বিশ্বাসযোগ্য, তেমনি হাস্যরসাত্মক চরিত্রেও সমান সাবলীল।
তার সংলাপ বলার ভঙ্গি, চোখের অভিব্যক্তি, বিরতির ব্যবহার; সবকিছু মিলেই তৈরি হয়েছিল নিজস্ব অভিনয়ভাষা।
এই অভিনয়শৈলী তাকে শুধু জনপ্রিয় করেনি, দিয়েছে স্বতন্ত্র মর্যাদা।
নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় ও একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন
আলী যাকেরের জীবনকে শুধু তার অভিনীত চরিত্র দিয়ে বিচার করলে অসম্পূর্ণ থেকে যাবে তার অবদান।
তিনি ছিলেন নাট্য সংগঠক, নির্দেশক এবং সংস্কৃতিকর্মীদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পথপ্রদর্শক।
নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পর্ক বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
স্বাধীনতার পর যখন দেশের নাট্যচর্চা নতুন রূপ পাচ্ছিল, তখন নিয়মিত মঞ্চায়ন, দলভিত্তিক চর্চা এবং অভিনয়ের পেশাগত মান উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
আলী যাকের বিশ্বাস করতেন, নাটক শুধু ব্যক্তিগত প্রতিভার প্রকাশ নয়; এটি সম্মিলিত সৃজনশীলতার শিল্প।
দলের শিল্পী, নির্দেশক, কারিগরি কর্মী এবং সংগঠকদের নিয়ে একটি সমন্বিত নাট্য সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়াস ছিল তার কাজের কেন্দ্রে।
এই দীর্ঘ যাত্রায় তার সহযাত্রী ছিলেন স্ত্রী, বিশিষ্ট অভিনেত্রী ও নাট্যব্যক্তিত্ব সারা যাকের। মঞ্চে তাদের যৌথ পথচলা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জগতের এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।
নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের জন্য আলী যাকের ছিলেন অনুপ্রেরণা। তার কাজ দেখিয়েছে, অভিনয়ে সাফল্যের জন্য প্রতিভার পাশাপাশি প্রয়োজন অধ্যবসায়, প্রস্তুতি, শৃঙ্খলা ও শিল্পের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণেও অগ্রণী
মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কাজ করেছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তার দায়িত্ববোধ শেষ হয়ে যায়নি।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, দলিল ও স্মৃতি সংরক্ষণের অন্যতম প্রতিষ্ঠান মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠার উদ্যোগেও যুক্ত ছিলেন আলী যাকের। তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম ট্রাস্টি।
এই ভূমিকা তার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে আরও বিস্তৃত করে।
যে মানুষ একাত্তরে বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সংবাদ পৌঁছে দিয়েছিলেন, সেই মানুষই পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজে যুক্ত থেকেছেন।
এ যেন একই দায়িত্ববোধের দুটি অধ্যায়: একটি স্বাধীনতা অর্জনের সময়, অন্যটি স্বাধীনতার ইতিহাস সংরক্ষণের সংগ্রামে।
বিজ্ঞাপন, লেখালেখি ও বহুমাত্রিক সৃজনশীলতা
আলী যাকেরের কর্মজীবন শুধু নাটক আর অভিনয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না।
দেশের বিজ্ঞাপন ও যোগাযোগশিল্পের বিকাশেও তিনি রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন এশিয়াটিক থ্রিসিক্সটির নেতৃত্বের সঙ্গে।
তার সৃজনশীলতার আরেকটি ক্ষেত্র ছিল লেখালেখি। বিভিন্ন সংবাদপত্রে সমাজ, সংস্কৃতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে লিখেছেন তিনি।
ফটোগ্রাফির প্রতিও ছিল তার গভীর ভালোবাসা। প্রকৃতি, গ্রামীণ বাংলাদেশ এবং মানুষের জীবন তাঁর আলোকচিত্রে স্থান পেয়েছে।
যেখানেই কাজ করেছেন, সেখানে সৃজনশীলতার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছেন দেশ, মানুষ ও সংস্কৃতিকে।
আলী যাকেরের জীবনের এই বহুমাত্রিকতা তাকে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
স্বীকৃতি ও শেষ বিদায়
নাট্যকলায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৯ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন আলী যাকের।
এ ছাড়া বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।
২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৬ বছর বয়সে তার জীবনাবসান ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছিলেন। শেষ সময়ে করোনাভাইরাসেও আক্রান্ত হয়েছিলেন।
তার মৃত্যু বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শূন্যতা তৈরি করে।
কিন্তু শিল্পীর জীবন কি কেবল জন্ম ও মৃত্যুর তারিখে সীমাবদ্ধ?
যে মানুষ দর্শকের স্মৃতিতে অমর কিছু চরিত্র সৃষ্টি করেছেন, যে মানুষ একাত্তরের স্বাধীনতার পক্ষে নিজের কণ্ঠ ব্যবহার করেছেন, যে মানুষ মঞ্চনাটকের কয়েক প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছেন; তাঁর উপস্থিতি তো থেকে যায় অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা ও সৃষ্টির মধ্যে।
জন্মদিনে ফিরে দেখা এক আলোকিত জীবন
আজ ৬ নভেম্বর। আলী যাকেরের ৮২তম জন্মবার্ষিকী।
এই দিনে তাকে স্মরণ করার অর্থ শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেতাকে শ্রদ্ধা জানানো নয়। এর অর্থ এমন একজন মানুষের জীবনকে ফিরে দেখা, যিনি নিজের সময়কে অতিক্রম করে বৃহত্তর সমাজের জন্য কাজ করে গেছেন।
একাত্তরে তার কণ্ঠ ছিল স্বাধীনতার পক্ষে। স্বাধীনতার পর তার মঞ্চ হয়ে উঠেছিল মানুষের কথা বলার জায়গা। টেলিভিশনে তার অভিনয় দর্শকদের দিয়েছে আনন্দ, হাসি, ভাবনা আর মানবিক অনুভূতির অসংখ্য মুহূর্ত।
নূরলদীনের প্রতিবাদ, গ্যালিলিওর সত্যসন্ধান, দেওয়ান গাজীর প্রাণবন্ত উপস্থিতি কিংবা ড. আসগরের হাস্যরস; প্রতিটি চরিত্রের মধ্য দিয়ে আজও যেন নতুন করে ফিরে আসেন আলী যাকের।
তার জীবন মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃত শিল্পী শুধু দর্শকের মনোরঞ্জন করেন না; সমাজের বিবেককে জাগিয়ে রাখার দায়িত্বও পালন করেন।
মঞ্চের আলো একদিন নিভে যায়, নাটকের পর্দা নামে, অনুষ্ঠান শেষ হয়। কিন্তু কিছু শিল্পীর সৃষ্টি থেকে যায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম। আলী যাকের তেমনই একজন: যার কণ্ঠে ছিল স্বাধীনতার প্রত্যয়, অভিনয়ে ছিল জীবনের স্পন্দন, আর সৃষ্টিতে ছিল বাংলাদেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা।
জন্মদিনে শ্রদ্ধা, অনন্য আলী যাকের।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…

