চীনের ‘চ্যাং’ই-৮’ চন্দ্রাভিযানের অংশ হিসেবে ২০২৯ সালের মধ্যে চাঁদে নিজস্ব রোভার পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেস অ্যান্ড আপার অ্যাটমোসফিয়ার রিসার্চ কমিশন (সুপারকো) জানিয়েছে, চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য পাঠানো রোভারটির নাম রাখা হয়েছে ‘জিন্নাহ-১’।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট এক বিবৃতিতে চন্দ্রাভিযানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় সুপারকো। দেশের প্রথম চন্দ্রযানের নাম নির্ধারণে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নামের প্রস্তাব চাওয়া হয়েছিল। প্রায় চার হাজার প্রস্তাবের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই শেষে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতি সম্মান জানিয়ে ‘জিন্নাহ-১’ নামটি বেছে নেওয়া হয়।
সুপারকো জানিয়েছে, ২০২৪ সালে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের চ্যাং’ই-৮ চন্দ্রাভিযান কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। সংস্থাটির মতে, এই অংশীদারত্ব পাকিস্তানের মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর আওতায় পাকিস্তানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি রোভার চাঁদের পৃষ্ঠে গিয়ে সরাসরি বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান চালানোর সুযোগ পাবে।
চাঁদের দক্ষিণ মেরু পৃথিবী থেকে অনেকটাই দুর্গম এবং সেখানে অভিযান পরিচালনা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তবে বিজ্ঞানীদের কাছে অঞ্চলটির গুরুত্ব অনেক বেশি। বিভিন্ন গবেষণায় চাঁদের এই এলাকায় বরফ হিসেবে পানির উপস্থিতি এবং মূল্যবান খনিজ সম্পদের সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে।
চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে থাকা এসব সম্ভাব্য সম্পদ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যেই ২০২৯ সালের চ্যাং’ই-৮ মিশনের পরিকল্পনা করছে চীন। সেই অভিযানের অংশীদার হিসেবে পাকিস্তানও সেখানে নিজেদের রোভার পাঠাবে।
এর আগে ২০২৩ সালের ২৩ আগস্ট ভারতের চন্দ্রযান-৩ প্রথমবারের মতো চাঁদের দুর্গম দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে সফলভাবে অবতরণ করে ইতিহাস তৈরি করেছিল।


