চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান এনে নিজ বাড়িতে মজুত রাখতেন বলে অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা জিয়াউর রহমান প্রকাশ মিয়ার বিরুদ্ধে। পরে এসব মাদক পাইকারি দরে বিভিন্ন কারবারির কাছে বিক্রি করা হতো বলেও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সম্প্রতি পুলিশের এক অভিযানে তার বাড়ি থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

গত রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানার সুপারিওয়ালা পাড়া এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। খাজা আজমীর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসের সামনে থেকে মো. শাহ আলম (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়। এ সময় আরও দুই ব্যক্তি পালিয়ে গেলেও অভিযান থেকে মোট ৬ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় ওই রাতেই তিনজনকে আসামি করে ডবলমুরিং থানায় মামলা করেন চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের উপপরিদর্শক মাহমুদুল করিম। বর্তমানে মামলার দুই আসামি পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।
মামলার আসামিরা হলেন— বাঁশখালীর সাধনপুর এলাকার বাসিন্দা মো. শাহ আলম, ডবলমুরিং এলাকার মো. পারভেজ (৩০) এবং পতেঙ্গার দুরিয়া পাড়ার বাসিন্দা জিয়াউর রহমান প্রকাশ মিয়া (৪৫)।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৩ জুন গঠিত বিএনপির চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪১ নম্বর ওয়ার্ড কমিটিতে জিয়াউর রহমান প্রকাশ মিয়াকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছিল। তিনি পতেঙ্গা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. নুরুল আবছারের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অভিযানের সময় শাহ আলমের কাছ থেকে একটি ব্যাগভর্তি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পতেঙ্গার দুরিয়া পাড়ায় জিয়াউর রহমান প্রকাশ মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে তৃতীয় তলার ড্রয়িংরুমের টি-টেবিলের নিচে টেবিল ক্যালেন্ডারের ভেতরে লুকিয়ে রাখা আরও ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার করা ইয়াবার মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৬ হাজার ২০০ পিস।
এজাহারে আরও বলা হয়, পলাতক আসামি পারভেজ ও জিয়াউর রহমান প্রকাশ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরের সহযোগিতায় ইয়াবাসহ বিভিন্ন অবৈধ মাদকের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পুলিশ পরিদর্শক মো. আফতাব হোসেন জানান, রোববার রাতে তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি বলেন, অভিযানের সময় পলাতক বিএনপি নেতার বাসা থেকে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় বিভিন্ন জায়গা থেকে চাপ এলেও শেষ পর্যন্ত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।



