চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ গ্যাংয়ের দেশীয় নেতৃত্বে ডেভিড ইমন: পুলিশ | চ্যানেল আই অনলাইন

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ গ্যাংয়ের দেশীয় নেতৃত্বে ডেভিড ইমন: পুলিশ | চ্যানেল আই অনলাইন

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন গ্যাংয়ের মূল নেতৃত্বে রয়েছে বড় সাজ্জাদ। দেশের ভেতরে গ্যাংটির কার্যক্রম পরিচালনায় প্রধান ভূমিকা পালন করত ডেভিড ইমন এবং তার পরেই সক্রিয় সদস্য হিসেবে রয়েছেন রায়হান। দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের ভিত্তিতে যশোর থেকে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেছেন, চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন গ্যাংয়ের মূল নেতৃত্বে রয়েছে বড় সাজ্জাদ, যিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। আর বাংলাদেশে গ্যাংটির কার্যক্রম পরিচালনায় প্রধান ভূমিকা পালন করতেন ডেভিড ইমন।

আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘গ্রুপের প্রধান সাজ্জাদ দেশের বাইরে রয়েছে। বাংলাদেশে পুরো গ্যাংয়ের নেতৃত্ব বলা যায় ডেভিড ইমনকে। তার পরেই রয়েছে রায়হান, যিনি এখনও পুলিশের নজরদারিতে আছেন।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশের কাছে কে কার প্রতিপক্ষ বা কোন গ্রুপের সদস্য—সেটি বিবেচ্য নয়। আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো সে অপরাধী কি না। কেউ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে থাকা মামলার তথ্য তুলে ধরে এসপি মাসুদ আলম জানান, পুলিশের সিডিএমএস তথ্য অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বর্তমানে ১৩টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সাতটি হত্যা মামলা। বাকি মামলাগুলো চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড-সংক্রান্ত।

তিনি জানান, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে ফটিকছড়ি থানায় অস্ত্র আইনে নতুন মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুরোনো মামলায় তাদের রিমান্ড আবেদন করা হবে।

ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে এসপি বলেন, পুলিশের কাছে আগে থেকেই তার অবস্থান ও গতিবিধি সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য ছিল। এসব তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তার এড়াতে ডেভিড ইমন নিজের চেহারা পরিবর্তন করেছিলেন। সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চুল ও দাড়ির স্টাইলও বদলে ফেলেছিলেন। তবে এটি কোনো আকস্মিক অভিযান নয়। দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং নিরলস পরিশ্রমের ফলেই তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।’

রাউজানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এসপি মাসুদ আলম বলেন, চট্টগ্রামে যোগদানের পর সবচেয়ে বড় দুটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি জঙ্গল সলিমপুর ও রাউজানকে পেয়েছেন। শুরু থেকেই রাউজানকে ঘিরে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে পুলিশ কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সন্ত্রাসীদের উত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত তদন্তে কোনো রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সৃষ্ট সাময়িক শূন্যতার সুযোগ অপরাধীরা নিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বায়েজিদ থানার একটি দস্যুতা মামলায় কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ডেভিড ইমন। পরে গ্রেপ্তারের ২২ দিনের মাথায় তিনি জামিনে মুক্তি পান।

Scroll to Top