অতিরিক্ত অভিবাসন ফি কমাতে হবে: প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী | চ্যানেল আই অনলাইন

অতিরিক্ত অভিবাসন ফি কমাতে হবে: প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী | চ্যানেল আই অনলাইন

প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর বলেছেন, যারা অবৈধভাবে প্রতারণার কাজ করছেন তারা ভালো হয়ে যান, ডিবি ডিজিএফআই নজর রাখছে। না হলে লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে। গলা কাটা অভিবাসন ফি কমাতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড প্রটেকশন (ওইপি) প্ল্যাটফর্মের কমপ্লেইন্ট ম্যানেজমেন্ট মডিউল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মালয়শিয়া শ্রমিক পাঠানো নিয়ে সিন্ডিকেটের মনোপলি চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৩ হাজার লাইসেন্সকৃত রিক্রুটিং এজেন্সিকে নিয়মের মধ্যে আনলে অনেকের লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, দালাল সিন্ডিকেট ব্যবসা বন্ধ করতে ও স্বচ্ছতা আনতে সরকার কাজ করছে। তবে মন্ত্রণালয়ের কাজ নিয়ে এখনও সন্তুষ্ট নই।

অভিবাসনের নামে প্রতারণা ও অনিয়মে জড়িত মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০টি অভিযোগ তার কাছে আসে। অধিকাংশ অভিযোগই বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের পরিবার ও বিদেশগামী কর্মীদের কাছ থেকে আসে। অনেককে যে কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদেশে পাঠানো হয়, সেখানে গিয়ে তারা সেই কাজ পান না। কেউ নির্যাতনের শিকার হন, কেউ জিম্মি হয়ে মুক্তিপণ দিতে বাধ্য হন, আবার কেউ প্রতারণার শিকার হন।

নুরুল হক নুর বলেন, সম্প্রতি সার্বিয়ায় পাঠানোর কথা বলে ২০০ থেকে ৭০০ জনের একটি গ্রুপের কাছ থেকে জনপ্রতি ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ইউরোপে পাঠানোর নামে ১০ থেকে ১৫ জনের বিভিন্ন গ্রুপের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও এসেছে। এসব বিষয়ে তদন্তের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিনিয়ত মালয়েশিয়া, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর নামে চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। অথচ অনেক ক্ষেত্রেই এসব প্রতিষ্ঠানের মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমোদন নেই। ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও মুহূর্তেই লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। তাই এ ধরনের ভুয়া প্রচারণাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএমইটির ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষমতা রয়েছে। তাই ভুয়া বিজ্ঞাপন ও প্রতারণার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন শ্রমবাজারে স্বচ্ছ ও কম খরচে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই কিছু অসাধু চক্র পাসপোর্ট জমা, মেডিকেল সিরিয়াল এবং টাকা নেওয়ার নামে প্রতারণা শুরু করেছে।

তিনি আরও বলেন, দেশে প্রায় তিন হাজার রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স থাকলেও এতগুলোর প্রয়োজন আছে কি না, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অনেক এজেন্সি লাইসেন্সের শর্ত পূরণ করতে পারে না। আবার কেউ কেউ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে।

সিঙ্গাপুরে কর্মী পাঠানোর খরচের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একজন শ্রমিকের কাছ থেকে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এটি সিঙ্গাপুর সরকারের নির্ধারিত খরচ নয়; বরং কিছু সিন্ডিকেটের কারণে এ ব্যয় বেড়েছে। এসব সিন্ডিকেট গরিব মানুষের রক্ত চুষে শত শত কোটি টাকার মালিক হচ্ছে।

তাছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকেও সাধারণ প্রবাসীদের ঋণ দিতে গিয়ে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিন লাখ টাকার ঋণ পেতে যদি দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়া হয়, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, অভিবাসন শুধু রেমিট্যান্স আয়ের বিষয় নয়; এটি দেশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তির সাথেও জড়িত। তাই বৈধ, নিরাপদ ও নৈতিক অভিবাসন নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রতারণা ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান আরো জোরদার করা হবে।

Scroll to Top