গ্যাসের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা, না পেয়ে মহাসড়ক অবরোধ সিএনজি চালকদের | চ্যানেল আই অনলাইন

গ্যাসের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা, না পেয়ে মহাসড়ক অবরোধ সিএনজি চালকদের | চ্যানেল আই অনলাইন

ময়মনসিংহ নগরের দিগারকান্দা এলাকায় ভোরে ঘর থেকে বেরিয়ে গ্যাস নেয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও গ্যাস না পেয়ে শেষ পর্যন্ত যাত্রী পরিবহনে না নেমে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে গ্যাস সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এসময় প্রায় আড়াই ঘণ্টার অবরোধে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। চরম দুর্ভোগে পড়েন কর্মস্থলগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও দূরপাল্লার যাত্রীরা।

এসময় বিভিন্ন স্লোগানে চালকরা জানান, কয়েক দিন ধরে জেলার বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।

তারা বলেন, গ্যাসের সংকট এখন আর এক দিনের নয়। কয়েক দিন ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভোর থেকেই দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেক চালক গ্যাস না নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন। ফলে প্রতিদিনের আয়ের বড় অংশ হারাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অবরোধের প্রভাবও বাড়তে থাকে। ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে। দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে যানজট তৈরি হয়। এর প্রভাব আশপাশের সড়কেও ছড়িয়ে পড়ে। অফিসগামী অনেক মানুষ সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেননি। শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন। কেউ কেউ বাস থেকে নেমে কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা দেন। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া চালক ইদ্রিস আলী বলেন, গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করতেই দিনের অর্ধেক সময় চলে যায়। এরপর আর আগের মতো ট্রিপ দেওয়া যায় না। আয় কমে গেছে, সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।

ইকবাল হোসাইন নামের আরেকজন চালক জানান, নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করতে না পারায় একদিকে যেমন তাদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষও নির্ভরযোগ্য পরিবহনসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। গ্যাস সরবরাহের এই সংকট নতুন নয়। মাঝেমধ্যেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। দ্রুত ও নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ চাচ্ছি।

মনোয়ার হোসেন নামের একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ময়মনসিংহ শহর ও আশপাশের এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা অন্যতম প্রধান গণপরিবহন। এই খাতে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে শুধু চালকদের আয়ই কমে না, পুরো যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থায় তার প্রভাব পড়ে। নগর ও জেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যাহত হয়, বাড়ে যাত্রীদের ভোগান্তি।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিব্বিরুল আহমেদ বলেন, অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আন্দোলনরত চালকদের সঙ্গে আলোচনা করে। বেলা ১২টার দিকে চালকরা মহাসড়ক থেকে সরে যান। এরপর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

Scroll to Top