গাইবান্ধায় ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় কোটি টাকার গরমিল, তদন্তের দাবি গ্রাহকদের

গাইবান্ধায় ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় কোটি টাকার গরমিল, তদন্তের দাবি গ্রাহকদের

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাটে ইসলামী ব্যাংকের একটি এজেন্ট শাখায় গ্রাহকদের জমাকৃত কোটি টাকার আমানতের হিসাব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, জমার রসিদ থাকলেও তাদের হিসাবে সেই অর্থের কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাংক শাখায় ভিড় করেন শত শত গ্রাহক।

গ্রাহকদের জমা টাকা ও ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় কোটি টাকার হিসাব গরমিল, তদন্ত দাবি

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে ঘটনাটি জানাজানি হলে ধাপেরহাট এজেন্ট শাখার সামনে রাত পর্যন্ত ভুক্তভোগী গ্রাহকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আমানতের অর্থ ফেরতের দাবি জানান।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা নিয়মিতভাবে ব্যাংকে অর্থ জমা দিয়েছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক হিসাব যাচাই করতে গিয়ে অনেকেই দেখেন, জমাকৃত অর্থের সঙ্গে ব্যাংকের হিসাবের কোনো মিল নেই। এতে কয়েকজন গ্রাহকের কোটি টাকার আমানত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারাও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অর্থ দ্রুত ফেরত নিশ্চিত করতে হবে।

ধাপেরহাট ইউনিয়নের হাসানপাড়া গ্রামের ভুক্তভোগী গ্রাহক সোলেমান সরকার বলেন, তিনি প্রতি মাসে নিয়মিতভাবে ব্যাংকে টাকা জমা দিয়েছেন। কিন্তু জমার রসিদের সঙ্গে বর্তমান হিসাবের কোনো মিল পাচ্ছেন না। তার দাবি, শুধু তিনি নন, আরও অনেক গ্রাহক একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন।

এদিকে ইসলামী ব্যাংক গাইবান্ধা শাখার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রকৃত হিসাব যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার পর থেকে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ধাপেরহাট ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখার ব্যবস্থাপক অলিউর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Scroll to Top