এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
খাগড়াছড়ির গুইমারায় পাহাড়ি কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় বিক্ষোভ-প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গতকাল রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) সহিংসতায় নিহত তিনজনের পরিচয় প্রকাশ করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পুলিশ জানায়, নিহত তিনজনই গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাদের সকলের বয়সই ২০ বছর থেকে ২২ বছরের মধ্যে।
নিহতরা হলেন- রামসু বাজার এলাকার অলাকাই মারমার ছেলে তৈইচিং মারমা (২০), আমতলী পাড়ার থুহলাঅং মারমার ছেলে আথুইপ্রু মারমা (২১) এবং চেংগুলি পাড়ার হাসু মারমার ছেলে আখ্রাউ মারমা (২২)।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের ময়নাতদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার পরে পরিবারের কাছে তাদের মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
জানা যায়, কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’-এর ব্যানারে ডাকা অবরোধের মধ্যেই গতকাল রোববার বিক্ষোভ ও সহিংসতায় রণক্ষেত্র পরিণত হয় খাগড়াছড়ির গুইমারার রামেসু বাজার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ছিল স্থানীয় একটি পক্ষ। এ সময় গুলিতে তিনজনের মৃত্যু হয়। তাঁরা তিনজনই পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর। সেনাবাহিনীর মেজরসহ আহত হন অন্তত ২০ জন।
এছাড়া আজ (সোমবার) দুপুরে খাগড়াছড়ির পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙালিদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের বৈঠক হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সব পক্ষ আলোচনা করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা।
এর আগে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দুপুরে জানিয়েছেন, খাগড়াছড়ির পরিস্থিতির সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে এবং পরিস্থিতি তদারক করতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সেখানে আছেন। ইতিমধ্যে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে শহরে।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার রাত ৯টায় প্রাইভেট পড়ে ফেরার পথে ওই কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ওই দিন রাত ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় একটি খেত থেকে তাকে উদ্ধার করেন স্বজনেরা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শয়ন শীল নামে একজনকে আটক করে পুলিশ। তাঁকে ছয় দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
