এসডিজি অর্জনে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে: পরিবেশমন্ত্রী | চ্যানেল আই অনলাইন

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘কনফারেন্স অন নাভিগেটিং ফাইভ ইয়ার স্ট্রাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক ফর এচিভিং এসডিজি: পলিসি, পার্টনারশীপ এন্ড প্রইয়োরিটিজ’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, এসডিজি কোনো একক মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠানের কর্মসূচি নয়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতাকে সমন্বিত করে এটি একটি জাতীয় উন্নয়ন কাঠামো।

বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য এসডিজির ১৩ নম্বর লক্ষ্য ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন’ এবং ১৫ নম্বর লক্ষ্য ‘লাইফ অন ল্যান্ড’ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি এসডিজি সূচকের বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন করে সেগুলোকে ‘অন ট্রেক’, ‘এট রিক্স’ ও ‘ক্রিটিকাল’ এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যেতে পারে। যেসব সূচক বর্তমান গতিতে ২০৩০ সালের লক্ষ্য অর্জনে পিছিয়ে রয়েছে, সেগুলোকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে। সীমিত সম্পদ দিয়ে কোথায় সবচেয়ে বেশি ফল পাওয়া সম্ভব, সেটিকে অগ্রাধিকারভিত্তিক এসডিজি পরিকল্পনার মূল বিবেচনা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নীতিসামঞ্জস্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, শুধু নতুন নীতি প্রণয়ন করলেই হবে না। বিদ্যমান নীতি, পরিকল্পনা, বাজেট ও উন্নয়ন কর্মসূচিগুলোকে একই জাতীয় লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত করতে হবে। বায়ুদূষণের উদাহরণ দিয়ে তিনি আরও বলেন, এ সমস্যা শুধু পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নীতির মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়। পরিবহন, শিল্প, জ্বালানি, নির্মাণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নগর পরিকল্পনা, জনস্বাস্থ্য, গবেষণা ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এ জন্য ‘পলিসি কোহেরেন্স’ ও ‘পলিসি কোনভার্জেন্স’ অপরিহার্য বলেও উল্লেখ করেন পরিবেশমন্ত্রী।

এসডিজি বাস্তবায়নে শুধু সরকারি বাজেটের ওপর নির্ভর না করে গ্রীণ ফাইন্যান্স, ক্ল্যাইমেট ফাইন্যান্স, ব্লেন্ডেড ফাইন্যান্স, প্রইভেট ইনভেস্টমেন্ট এবং ডেভেলপমেন্ট পার্টনার ফাইন্যান্সিং কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিবেশগত টেকসইতাকে শুধু ব্যয় হিসেবে দেখলে হবে না। এটিকে বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবেও বিবেচনা করতে হবে।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সাল আর খুব বেশি দূরে নয়। আগামী কয়েক বছরই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ এসডিজি অর্জনের পথে কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে এগোতে পারবে। বিদ্যমান নীতি, প্রতিষ্ঠান, বাজেট, তথ্য, প্রযুক্তি ও অংশীদারিত্বকে অভিন্ন জাতীয় ফলাফলের দিকে সমন্বিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এসডিজিকে শুধু আন্তর্জাতিক রিপোর্টিং কাঠামো হিসেবে না দেখে বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের বাস্তব জাতীয় কর্মপরিকল্পনা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার। প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. নিয়ামত উল্লাহ ভূইয়া।

Scroll to Top