
ছবি : সংগৃহীত।
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ও তার বোন কারিনা মিলেইয়ের বিরুদ্ধে ক্রিপ্টোকারেন্সি লিব্রা-সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগে চলমান তদন্ত বাতিল করেছে দেশটির আদালত। সরকারি নথি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফেডারেল বিচারক মার্সেলো মার্তিনেস দে জর্জি মামলাটি খারিজ করেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে লিব্রা নামের একটি নতুন ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেন মিলেই। ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, এই ক্রিপ্টোকারেন্সি ক্ষুদ্র ব্যবসা ও নতুন উদ্যোগে অর্থায়নে সহায়তা করতে পারে। তার পোস্টের পরপরই মুদ্রাটির দাম দ্রুত বেড়ে যায়। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিটির মূল্য ব্যাপকভাবে কমে যায়। এতে বহু বিনিয়োগকারী বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।
এ ঘটনায় মিলেইয়ের বিরুদ্ধে ক্রিপ্টোকারেন্সিটির প্রচার এবং বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। অনলাইনে অনেকে ঘটনাটিকে ‘রাগ পুল’ বলে অভিহিত করেন। ক্রিপ্টো জগতে এ শব্দটি সাধারণত এমন পরিস্থিতি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যেখানে কোনো প্রকল্পের উদ্যোক্তা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার পর প্রকল্প থেকে সরে যান, ফলে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। তবে এ ঘটনায় এমন অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা নিয়ে অভিযোগই ছিল তদন্তের অন্যতম বিষয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে মিলেই বলেছিলেন, তিনি ক্রিপ্টোকারেন্সিটির প্রচার করেননি, কেবল সেটি সম্পর্কে একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টোডো নোতিসিয়াসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা স্বেচ্ছায় অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন এবং তারা বিনিয়োগের ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত ছিলেন।
পোস্টটি মুছে ফেলার ব্যাখ্যায় মিলেই জানান, শুরুতে প্রকল্পটির বিস্তারিত তথ্য তার জানা ছিল না। পরে বিষয়টি সম্পর্কে জানার পর তিনি সেটির প্রচার চালিয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ও দাবি করেছিল, লিব্রা তৈরির সঙ্গে মিলেই কোনোভাবেই যুক্ত না। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে দুর্নীতিবিরোধী দপ্তরকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়।
বিচারক মার্তিনেস দে জর্জি মামলাটি খারিজ করার সময় বলেন, অভিযোগে বর্ণিত ঘটনাগুলো কোনো আইনগত অপরাধের শ্রেণিতে পড়ে না। পাশাপাশি, অপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়ার মতো প্রতারণার প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ঘটনাটি ঘিরে আর্জেন্টিনার বিরোধী রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল। বিরোধী আইনপ্রণেতাদের একাংশ মাইলেইর বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।
তবে তদন্ত বাতিলের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে মিলেইর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত বাতিলের অর্থ এই নয় যে বিনিয়োগকারীদের আর্থিক ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। বরং আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই মামলায় অভিযোগগুলোকে অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মতো আইনি ভিত্তি বা প্রতারণার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…

