কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দরবার শরিফ ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ এবং দরবারপ্রধান আব্দুর রহমান শামীম ওরফে জাহাঙ্গীরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার পর দেশের বাউল সংগীতশিল্পী শফি মণ্ডলের বাড়িতে পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) রাতে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান এ তথ্য জানিয়ে বলেন, কোনো হুমকি না থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে বাউল শিল্পী শফি মণ্ডলের বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শফি মণ্ডলের বাড়ি দৌলতপুর উপজেলার হোসেনাবাদ এলাকায়। তবে তার মূল বাড়ি নিহত শামীমের বাড়ি তথা ফিলিপনগর এলাকায়।
তিনি বেশ কয়েক বছর আগে উপজেলার হোসেনাবাদ এলাকায় বাড়ি তৈরি করে বসবাস শুরু করেন।
এ বিষয়ে বাউল শিল্পী শফি মণ্ডল বলেন, আমি গত এক মাস গ্রামের বাড়িতে নেই। ঢাকাতে অবস্থান করছি। ওখানে কী হচ্ছে এটা তো আমি বলতে পারব না।
চিকিৎসকের কাছে চাঁদা দাবি, সাবেক সেই যুবদল নেতা মঈনসহ গ্রেপ্তার ৭
এ ব্যাপারে শফি মণ্ডলের মেয়ে লিনা মণ্ডল বলেন, আমার বাবা সাধক শিল্পী, সংগীতের জন্য মূলত তিনি বিভিন্ন দরবারে যান। ফিলিপ নগর আমাদের বাড়ি, যে কারণে তিনি এই দরবারে গিয়েছিলেন সে সময়ের ছবি ও ভিডিও আছে। যে ভিডিও ভাইরাল করে মব তৈরি করে শামীমকে হত্যা করা হলো, সেই ভিডিওতে আমার বাবাও আছে।
আমার বাবা লালন দর্শনের অনুসারী।
তিনি আরো বলেন, যেহেতু আমরা লালন অনুসারী বা লালন দর্শনে বিশ্বাস করি। এ ছাড়া আমার বাবা লালন সাঁইজির বাণীর প্রতিনিধিত্ব করেন। এখন এই মতের সঙ্গে তো অন্য ধারণার মানুষের মিল না-ও হতে পারে। কিন্তু আমরা আল্লাহ, আল্লাহর রাসুল (সা.) সম্পর্কে ধ্যান করি।
আমাদের জীবনাচরণ অবশ্যই ইসলামী, তবে আমরা সাঁইয়ের ধারাটাকেই লালন করি। যেহেতু ওই ছবিটা ভাইরাল হয়েছে, যে ছবিতে আমার বাবা আছেন। মব জাস্টিসের সঙ্গে যারা জড়িত, তারা সেটি ভাইরাল করেছে। আমার বাবা একজন দেশ বরেণ্য শিল্পী যার কারণে সরকার মনে করেছেন তার নিরাপত্তা দেওয়া দরকার তাই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শনিবার দুপুরে দরবারপ্রধান শামীমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় দরবার শরিফে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। নিহত শামীম ওই দরবার শরিফের প্রধান এবং এলাকায় কালান্দার বাবা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। দরবার শরিফে হামলায় তার তিন অনুসারী মহন আলী, জামিরুন নেছা ও জুবায়ের আহত হন।
সূত্রঃ কালের কণ্ঠ



