কিউইদের বাংলাদেশ সফরের দলকে ‘দ্বিতীয় সারির’ মানতে নারাজ সিমন্স | চ্যানেল আই অনলাইন

কিউইদের বাংলাদেশ সফরের দলকে ‘দ্বিতীয় সারির’ মানতে নারাজ সিমন্স | চ্যানেল আই অনলাইন

আইপিএলে খেলার কারণে নিউজিল্যান্ড তাদের মূল দলের বেশ কিছু ক্রিকেটারদের ছাড়াই বাংলাদেশ সফরে এসেছে। তবে সফরকারীদের দ্বিতীয় সারি হিসেবে মানতে একেবারেই নারাজ নারাজ ফিল সিমন্স। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোনো দলকেই খাটো করে দেখার পক্ষপাতী নন স্বাগতিকদের কোচ।

ওয়ানডে সিরিজ শুরুর দুই দিন আগে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে কিউইদের এই দলটির কাছে কতটা চ্যালেঞ্জ আশা করছেন, তা ক্যারিবীয় কোচের কাছে জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি প্রতিপক্ষের পাইপলাইন এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের মান তুলে ধরে তাদের প্রচুর অভিজ্ঞ হিসেবে মত দেন।

সিমন্স বলেন, ‘দ্বিতীয় সারির দল সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। আমি মনে করি যেকোনো দেশ থেকে আসা যেকোনো দলই তাদের সেরা দল। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের মতো দেশ যেখানে সবসময় নতুন প্রতিভা উঠে আসে। আর একটা জিনিস আপনার জানা উচিৎ, এই সব খেলোয়াড় ঘরোয়া ক্রিকেটের সব ফরম্যাটে প্রচুর ম্যাচ খেলেছে। তাই তারা বেশ পোড় খাওয়া এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। তাদের মধ্যে কেউ হয়তো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি। কিন্তু তারা জীবনে অনেক ক্রিকেট খেলেছে। তাই দ্বিতীয় দল নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টা ওইভাবে কাজ করে না।’

টাইগারদের হেড কোচ উইকেটের আচরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তার মতে, জেতার জন্য শুধু লো বাউন্সের উইকেটে না খেলে চ্যালেঞ্জিং কন্ডিশনে খেলা উচিৎ।

সিমন্সের ভাষায়, ‘আমরা ভালো উইকেট পাওয়ার চেষ্টা করছি, কারণ আমি দেখছি যখন ভালো উইকেটে খেলা হয়, তখন দল দ্রুত উন্নতি করে। তাই আমি যতটা সম্ভব ওই ধরনের উইকেট পাওয়ার চেষ্টা করছি।’

চলতি ভারতের মাটিতে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জেতে কিউইরা। মাঝের ওভারগুলোতে সফরকারী স্পিনাররা ভারতীয় ব্যাটারদের খুব শক্তভাবে আটকে রেখেছিল। এবারো উপমহাদেশের কন্ডিশনে নিউজিল্যান্ড একই ভূমিকা পালন করবে কিনা, এ প্রসঙ্গে সিমন্স সব বোলারদের সম্ভাবনাই দেখছেন।

‘আমার মনে হয় সব বোলারেরই বড় ভূমিকা পালনের দায়িত্ব আছে। ৫০ ওভারের খেলায় মাঝের ওভারগুলো সব বোলারের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি ফাস্ট বোলারদেরও এখানে এসে উইকেট নিতে হয় অথবা রান আটকে রাখতে হয়। ভারতে তারা খুব ভালো করেছে। তাই আমি আশা করি, তারা আমাদের ওপর ওই ধরনের চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করবে এবং আমরাও সেটি মোকাবিলার কাজ করছি।’

পাকিস্তানের বিপক্ষে ভিন্ন কন্ডিশনে খেলেছে বাংলাদেশ। চিরচেনা লো বাউন্সের উইকেটে না খেলেনি। ট্রু ও বাউন্সি উইকেটে খেলানোর অভ্যাসটা ক্রিকেটারদের গড়ে তোলার পদক্ষেপটা ছিল ইতিবাচক। তবে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে এটি হতে পারে হিতে বিপরীত। কারণ তাদের ডেরায় রয়েছে আরও মানসম্মত পেসার। পাকিস্তানের চেয়েও বেশি চ্যালেঞ্জ আসাটা তাই অসম্ভব নয়।

সিমন্স বলেছেন, ‘পাকিস্তানেরও মানসম্পন্ন পেসার আছে। দেখুন, যেকোনো সিরিজেই চ্যালেঞ্জ থাকবে এবং হয়তো নিউজিল্যান্ড আমাদের ভিন্নভাবে চ্যালেঞ্জ করবে, কিন্তু আমরা সব ধরনের চ্যালেঞ্জের জন্যই প্রস্তুত এবং তারা যেখানে যেখানে আমাদের পরীক্ষা নিতে পারে আমরা সবক্ষেত্রেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। পাকিস্তান আসার আগেও আমরা একই কাজ করেছিলাম। তাই আমরা একটি সুস্থ প্রতিযোগিতার অপেক্ষায় আছি।’

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য এবার মাঠে গড়াবে না দিবা-রাত্রির ম্যাচ। দিনের আলোতেই হবে ওয়ানডে সিরিজ। এজন্য প্রস্তুতিতে পার্থক্যের বিষয়টি সামনে আনেন সিমন্স। বলেছেন, ‘এক্ষেত্রে সামান্য পার্থক্য হয়। যখন দিনে খেলা হয়, উইকেট হয়তো কিছুটা বেশি গ্রিপ করে এবং কিছুটা ধীরগতির হতে পারে। যেহেতু আমাদের অনুশীলন এই সময়েই হচ্ছে, আমরা সেটি মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

Scroll to Top