পর্যটন–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক দশক আগেও পর্যটকেরা হিমছড়ির ঝরনা, শাহেনশাহ গুহা, কানারাজার সুড়ঙ্গ ও কুদুম গুহা দেখতে কক্সবাজারে আসা মানুষজন ছুটে যেতেন। এখন বিনোদনকেন্দ্রগুলোর অবস্থা বেহাল। সংস্কারের অভাবে কেন্দ্রগুলো যেমন ধ্বংস হচ্ছে, নিরাপত্তাব্যবস্থাও নেই। হিমছড়ির ঝরনাতে পানি নেই। যেটুকু পানি পড়ে, তাতে মানুষ হতাশ। দরিয়ানগর ও হিমছড়ি পয়েন্টে চারটি প্যারাসেইলিং প্রতিষ্ঠান থাকলেও অদক্ষ চালকের কারণে প্রায় সময় দুর্ঘটনা ঘটছে। সৈকত তীরের ঝাউবাগানে ঢুকলে পর্যটকেরা ছিনতাইয়ের শিকার হন। বাগানের ভেতরে হাজারো অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। সেখানে বখাটে, ছিনতাইকারী ও মাদকসেবীদের আড্ডা চলে।
রাজশাহী ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সাজেদুর রহমান ও শফিকুর রহমান বলেন, পুরো শহরটা এখন ইটপাথরের ঘিঞ্জি-বস্তিতে পরিণত হয়েছে, যেখানে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা ছাড়া কিছুই নেই। পরিবহন খরচও অনেক বেশি। ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করেন চালকেরা।
কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত যাতায়াতে ১২ জন ধারণক্ষমতার একটি খোলা জিপ ভাড়া নিলে গুনতে হয় (আসা যাওয়া) ৬ হাজার ৫০০ থেকে ৯ হাজার টাকা। এ ছাড়া ইনানী-পাটোয়ারটেক সৈকতে যেতে ৩ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা এবং হিমছড়ি যেতে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা লাগে।
কক্সবাজার জিপ-মাইক্রো মালিক সমিতির সভাপতি শাহজাহান বাপ্পী জানান, শহরে পর্যটক টানার জিপগাড়ি (চান্দেরগাড়ি) আছে ৪১০টি, মাইক্রো-হাইয়েস ২৪০টি আর ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক-টমটম, অটোরিকশা, সিএনজিচালিত ইজিবাইক আছে আরও ৭ হাজারের বেশি। ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল আছে চার শতাধিক।
কয়েকজন জিপ ও মাইক্রোবাসের চালক জানান, অধিকাংশ টমটম ও অটোরিকশাচালকেরা অপ্রাপ্তবয়স্ক। মেরিন ড্রাইভে বেপরোয়া গতিতে টমটম ও মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে প্রায় সময়ই দুর্ঘটনা ঘটে, তাতে হতাহতের সংখ্যাও বাড়ছে। নিরাপত্তার কারণে মেরিন ড্রাইভে সন্ধ্যা সাতটার পর পর্যটকবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।


